ফাঁসি ঠেকাতে জামায়াতের তাণ্ডব

1
যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়ার পর রাজশাহী, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। 

এছাড়া চট্টগ্রামে যানবাহনে আগুন এবং বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

রাত সোয়া ৯টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে শিবিরকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে এসে একটি বাস, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং দুটি টেম্পোতে আগুন দেয়।

এ সময় শিবিরকর্মীরা আট থেকে দশটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা সটকে পড়ে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার আবদুর রউফ গাড়িতে আগুন দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানেও ককেটেল বিস্ফোরণ ঘটায় শিবিরকর্মীরা। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকনিয়ার হাসমতের দোকান এলাকায় একটি পিকআপে আগুন দিয়েছে তারা।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিনোদপুর ও জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মতিহার থানার এসআই আবুল কালাম আযাদকে উদ্ধৃত করে জানান, জামায়াত-শিবিরকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিনোদপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়। পরে পাশের দোকানও তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

জয়পুরহাটে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং জেলার সাধারণ সম্পাদকের বাসায় আগুন দিয়েছে জামায়াত শিবিরকর্মীরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম সোলায়মান আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার খবর শুনে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলা শহরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দু’পাশের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে যানবাহন, দোকানপাট ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

পরে তারা উপজেলা শহরের প্রফেসরপাড়া এলাকায় পলাশবাড়ি উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ. লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকছেদ চৌধুরীর বাড়ি ও বাড়ির সামনে রাখা সরকারি পাজেরো জিপ এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় তারা শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় কালিবাজরে ছাত্রলীগকর্মী মনির হোসেনের দোকান প্রতিভা ইলেকট্রনিক্স, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী রাসেলের উত্তর বাসস্টান্ডে হার্ডওয়ারের দোকান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিনের ব্যক্তিগত অফিসসহ ১০/১২ টি বাড়ি ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও শট গানের গুলি নিক্ষেপ করে।

কুষ্টিয়া

মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ায় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের অফিসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় অফিসে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এজন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি বেলায়েত হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা ছাত্রলীগের অফিস আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে।  ঘটনার পরপরই র‌্যাব ও পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে  সাদ্দাম বাজার এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক এসে প্রথমে ছাত্রলীগ অফিস লক্ষ্য করে কয়েকটি হাতবোমা ছোড়ে। এর কিছুক্ষণ পর তারা ওই অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই অফিস পুড়ে সম্পূর্ণরূপে ভস্মিভূত হয়ে যায়।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী মুর্তজা খসরু  বলেন, জামায়াত- শিবিরের ক্যাডাররা  তাদের অফিসে এ নাশকতা চালিয়েছে।

খুলনা

খুলনা প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার  রাত ৯টার দিকে নগরীর পিটিআই মোড়,  টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড মোড়, কবর খানা মোড়, সুন্দরবন কলেজের সামনে, মৌলভীপাড়া, মডার্ণ ফার্নিচারের মোড়সহ আশপাশের এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি একটি মোটরসাইকলে অগ্নিসংযোগ, পাঁচটি অটোরিকশায় ভাংচুর চালায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। কয়েকটি  দোকানেও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এসময় পুলিশ এগিয়ে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একটি পেট্রোল বোমা পুলিশের গাড়ীর ওপর নিক্ষেপ করা হয়। তবে বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই  পুলিশ  তা নিরাপদ দূরত্বে ছুড়ে ফেলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল ছোড়ে  পুলিশ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে  কয়েক দফা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রশিবির কর্মীরা।

জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক হায়দার হোসেন জানান,  রায়ের কার্যকারিতা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিতের পরপর শিবিরের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের গোলত্বরে অবস্থান নিয়ে কায়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

এরপর তারা মিছিল নিয়ে ছাত্র হলের দিকে এগিয়ে যায়।  মিছিল থেকেও কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

জালালাবাদ থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানান, ক্যাম্পাস ও হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper