৯ শর্তে নির্বাচনে যেতে রাজি বিএনপি

1

চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ৯টি শর্ত পূরণ হলেই নির্বাচনে যেতে রাজি আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৮ দলের জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক না হয়ে সর্বদলীয় হলেও আপত্তি নেই তার। শর্তপূরণ হলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক, স্বাচ্ছন্দ্যে তাও মেনে নিতে রাজি তার নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের মধ্যস্থতাকারী ঢাকায় সফররত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে এসব শর্তের কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত তারানকো খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের বাসায় বৈঠক করেন। সফরকালে এটি তাদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক। এ বৈঠকেই শর্তগুলোর কথা তারানকোকে জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

এর আগে রোববার (৮ ডিসেম্বর) রাতে খালেদা জিয়ার এই শর্তগুলোর বিষয়ে তারানকো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারানকোকে খালেদা জিয়া যেসব শর্তের কথা বলেছেন তার শুরুতেই রয়েছে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব। দ্বিতীয় শর্তে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো পদে তিনি থাকতে পারবেন না। তৃতীয় শর্ত হচ্ছে নির্দলীয় কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান করতে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত আপত্তি থাকলে ওইপদে রাষ্ট্রপতিকে বসানো। শর্তমালার চতুর্থ-পঞ্চম স্থানে আছে নির্বাচন কমিশনের আংশিক পুনর্গঠন। সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ ও নির্বাচন কমিশনার মোবারককে বাদ দিয়ে নতুন ইসি পূর্ণগঠন করতে হবে। ষষ্ঠ-অষ্টম শর্ত হচ্ছে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান রাষ্ট্রপতির কাছেই রাখা। সর্বশেষ শর্তের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলায় ১৮-দলীয় জোটের যেসব নেতা কারাবন্দি রয়েছেন তাদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারসহ সকল রাজনৈতিক মামলা তুলে নেওয়া।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, শর্তগুলো ইংরেজিতে কম্পোজ করে তারানকোর হাতে তুলে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে সরকারপক্ষের সঙ্গে আলাপ শেষ করে তারানকো আবারও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারানকোর আজকের বৈঠককালে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান এবং সাবিহউদ্দিন আহমেদ।

এ বৈঠকের আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে তার গুলশান-২ এর ১১০ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়িতে বৈঠক করেন তারানকো। সেখানে সাবিহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে টানা চার দিন দফায় দফায় বৈঠক শেষে সোমবার অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো আশাবাদ ব্যক্ত করলেন, সমাধান এখনো সম্ভব যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকে। নির্বাচনকালীন সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকায় সফররত জাতিসংঘ মহাসচিবের এ বিশেষ দূত তার পাঁচ দিন সফরকালের চতুর্থ দিনে এসে মুখ খুললেন।

সোমবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তারানকো সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান অচলাবস্থার অবসান হওয়া সম্ভব। তবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সদিচ্ছা ও সমঝোতার মনোভাব নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংলাপের ওপর। রাজনৈতিক দলগুলোর এবং নেতাদের মধ্যে ছাড় দেয়ার মনোভাব প্রয়োজন।

শান্তির প্রচেষ্টায় আরো কিছু বৈঠক করবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী। এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ার সুযোগ আছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারানকো। কিন্তু সোমবার দুপুরের আগে পর্যন্ত তিনি কোথাও কোনো কথা বলেননি। এমনকি বিএনপি, আওয়ামী লীগ নেতারাও বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাচ্ছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper