বিএনপির অজ্ঞাতস্থানীয় ভিডিওবার্তা: হার মেনেছে আল কায়েদা

1

একদিকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে প্রকাশ্য আলোচনা চালাচ্ছে বিএনপি, অন্যদিকে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন স্টাইলে অজ্ঞাত স্থান থেকে একের পর এক ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে ১৮ দলের পক্ষে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ দাবি-করা বিএনপির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন পরিচিতি লাভ করেছেন ‘মানুষ-মারার ঘোষক’ হিসেবে।
গতকাল সোমবার নতুন ভিডিওবার্তায় ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি আগামী শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে আল কায়েদা স্টাইলে কেন আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনার ঝড়। পাড়ার সেলুনবয় থেকে শুরু করে রাজনীতিক ও চিন্তাশীল মহলের জিজ্ঞাসা— বিএনপি কি নিষিদ্ধ দল হয়ে গেছে? তারা এভাবে গোপন জায়গা থেকে ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে কেন ‘মানুষ মারার ঘোষণা’ দিচ্ছে?
এ পর্যন্ত সালাহউদ্দিন অজ্ঞাত স্থান থেকে ৬ দফা ভিডিওবার্তায় ১৮ দলের পক্ষ থেকে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছেন। তার ঘোষণায় থমকে গেছে জনজীবন। অবরোধকারীদের লাগাতার নাশকতায় জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত হরতাল-অবরোধে অর্ধশতাধিক মানুষের জীবন গেছে। তাদের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। গতকাল সিরাজগঞ্জে পুলিশ-অবরোধকারী সংঘর্ষকালে রাবার বুলেটে প্রাণ গেছে এক শিশুর। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর বার্ন ইউনিটে ভর্তি হচ্ছেন পেট্রলবোমায় দগ্ধ মানুষ। তাদের বেশিরভাগই লাশ হয়ে ঘরে ফিরছেন। বেদনার্ত মানুষের হাহাকারে ভারী হচ্ছে বাতাস। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সন্তানের পোড়া শরীরের পাশে আর্তনাদ করা পিতার জিজ্ঞাসা, কে এই সালাহউদ্দিন? কেন তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে ঘোষণা দিচ্ছেন?
অজ্ঞাত স্থান থেকে এভাবে ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে দেশকে অবরুদ্ধ করে রাখা, নাশকতা চালানোকে সংবিধান পরিপন্থী মনে করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবেদ খান। তিনি বলেন, এটা কেবল জঙ্গি সংগঠনের পক্ষে সম্ভব। বাঙালির বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি দেশজুড়ে নাশকতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, সংবিধান, মানবতা ও আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেতে পারে বিএনপিকে। তার প্রশ্ন— সফররত জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও অন্য নেতারা তো প্রকাশ্যেই বৈঠক করছেন, তাহলে অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিওবার্তা প্রেরণ কেন?
বিএনপি দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলে দাবি করে। সেই বিতর্কিত ‘স্বাধীনতার ঘোষক’-এর দল এখন নতুন ঘোষক-বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিএনপির হয়ে মানুষ মারার ঘোষণা দিচ্ছেন ওই দলেরই নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ।— এমনই মনে করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠনেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, এভাবে গোপন ভিডিওবার্তা না পাঠিয়ে, নাশকতা না করে, মানুষ পুড়িয়ে না মেরে, হাজার-হাজার মানুষ নিয়ে বিএনপি রাস্তায় নেমে আসতে পারত। তারা রেললাইন উপড়ে না ফেলে সেখানে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়তে পারত। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও রাস্তায় বেরিয়ে আসতে পারতেন। তা না করে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি স্বঘোষিত নিষিদ্ধ দলে পরিণত হয়েছে। এটা হতে পারে না, এটা রাষ্ট্রদ্রোহ ও দেশদ্রোহিতার শামিল। অতীতে আমরাও হরতাল-অবরোধ করেছি। সে সময় আমরা রাজপথে থেকে প্রতিরোধ রচনা করেছি। এভাবে গোপনবার্তা পাঠিয়ে রেললাইন উপড়ে ফেলিনি। আল কায়েদা বাহিনীর মতো নাশকতা চালাইনি।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিএনপি-জামায়াতের কর্মকাণ্ড দেখে তো মনে হচ্ছে তারা আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি। বিএনপিকে কে নিষিদ্ধ করেছে, প্রশ্ন করে মেনন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে এমন দায়িত্বহীন আন্দোলন করা মোটেও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। এভাবে ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে নাশকতার উস্কানি আলকায়েদাকেও হার মানায়। আমাদের বিজয়ের মাসে একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন হল, এই যুদ্ধ কার বিরুদ্ধে? বিএনপির এই রাজনীতি, অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিওবার্তা পাঠানোর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে জেগে উঠতে হবে। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইস্যুটা ভিডিওবার্তা নয়, নজর দিতে হবে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার প্রতি। জামায়াত-শিবিরের খপ্পরে পড়েছে বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপিকে ফাঁদে ফেলে আওয়ামী লীগ এখন নিজেই ফাঁদে আটকে গেছে। পরিস্থিতি ভালো নয়। এখন বিএনপি গোপন ভিডিওবার্তায় যদি ঘোষণা দেয়, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে তারা, তাহলে আমি ওই বার্তাকে স্বাগত জানাব। সেই সঙ্গে সচেতন দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, বিএনপি-জামায়াতের সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper