নির্বাচনি ট্রেন বাধাগ্রস্ত!

1

তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে যাত্রা শুরু করেছে সর্বদলীয় নির্বাচনি ট্রেন। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের তফসিল প্রত্যাখ্যানমূলক ৪৮ ঘণ্টার সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত সেই ট্রেন। শুধু নির্বাচনি ট্রেনই নয়, বাধাগ্রস্ত বাস্তবের ট্রেনও। গতকাল এ অবরোধের প্রথম দিন ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। অবরোধকালে সহিংস ঘটনায় বিজিবি জওয়ান, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ নিহত হয়েছেন ৮ জন। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতায় এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯। তফসিল ঘোষণার পরপরই সোমবার রাতে শুরু হওয়া সহিংসতায় রাজধানীতে ১ ও  কুমিল্লা নগরীতে ১ জন নিহত হন। গতকাল আহতের সংখ্যা ৬৩২ ছাড়িয়ে গেছে। আহতদের মধ্যে রাজশাহী ও খুলনা সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র রয়েছেন। নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ আটক করেছে ১৮ দলের ১২৫ নেতাকর্মীকে।
গতকাল নিহতদের মধ্যে কুমিল্লায় ২, সাতক্ষীরায় ২, সিরাজগঞ্জে ১, বগুড়ায় ১, ফেনীতে ১ ও বরিশালে ১ জন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— রাজশাহীতে ১৬০, ময়মনসিংহে ১৩৫, সাভারের আমিনবাজার ৫০, সিরাজগঞ্জে ১৭, সাতক্ষীরায় ৪০, কুমিল্লার লাকসামে ২০, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুযরে ১৫, রূপগঞ্জে ১২, জামালপুরে ১০, উল্লাপাড়ায় ১০, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ১৫,  ঠাকুরগাঁও ৫, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১০, পিরোজপুরের জিয়ানগরে ৩, ঝিনাইদহে ১, ফরিদপুরে ১, বরগুনায় ২০, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫, পিরোজপুর ১৫, নারায়ণগঞ্জে ১০,  চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৫,  কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৫, লালমনিরহাটে ১৩,  খুলনায় ১০ ও  নোয়াখালীতে ২৫ জন।
রাজধানীসহ সারা দেশে সড়ক ও রেলপথে  প্রাণঘাতী নাশকতা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির সময় বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ১৮-দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অবরোধকারীরা ভাঙচুর করে ২১৭টি বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। আগুনে পোড়ায় আরও প্রায় ১৫টি বাস ও ট্রাক। বিস্ফোরণ ঘটায় শতাধিক ককটেলের। রেললাইন উপড়ে ফেলার পাশাপাশি তারা ট্রেনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ব্যাহত হয় ট্রেনচলাচল। বগুড়া, রাজশাহী, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গায় অগ্নিসংযোগ করা হয় নির্বাচনি অফিসে।
সাতক্ষীরা-যশোর, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, বগুড়া-ঢাকা, রংপুর-ঢাকা, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, লালমনিরহাট-বুড়িমারী, চাঁদপুর-কুমিল্লা, ঢাকা-পাবনা এবং পাবনা-কুষ্টিয়া, রায়পুর-চাঁদপুর মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি টহল দিচ্ছে রাজধানী ঢাকা, বগুড়া, সিলেট, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, মেহেরপুর, লালমনিরহাট ও সাভারের আমিনবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে।
গতকাল সকাল সোয়া ৯টার দিকে উত্তরার আজমপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কার্যালয়ে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। আগুনে কার্যালয়ের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। বেলা ১১টার দিকে উত্তরার আজমপুর রেলগেটে রেললাইনের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে তাতে অগ্নিসংযোগ করে ১৮-দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা তিতাস ট্রেনের একটি বগি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অবরোধকারীদের ওপর হামলে পড়ে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে তাদের রেললাইন থেকে হটিয়ে দেয়। ঘটনায় পুলিশের গুলিতে পথচারীসহ ৫ জন আহত হন। অবরোধকারীদের পাথরের আঘাতে দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কায়কোবাদ কাজী গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবরোধকারীরা তার মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়েছে।
সকাল ১০টায় দক্ষিণখান রেললাইনের পাশে ব্রাক শপিং সেন্টারে ডাচ্বাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের ২টি এটিএম বুথ ভাঙচুর করে একদল যুবক। সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (সিএমএম) সামনে ৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিকাল ৩টার দিকে খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় অবরোধকারীদের ছোঁড়া ককটেলে আনোয়ারা বেগম (৫০) নামে এক ব্যাংক কর্মচারী আহত হন। একই সময়ে পুরানা পল্টন মোড়ে অবরোধকারীদের ছোড়া ককটেলে আলমগীর হোসেন মাতুব্বর নামে এক ফল ব্যবসায়ী আহত হন।
সকাল সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে অতীশ দীপংকর বিশ্ববিদ্যালয়ের গলির মুখে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এরপর কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। দুপুর আড়াইটার দিকে পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ২ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে।
সকাল ৯টার দিকে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় শিবিরের মিছিল থেকে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় ছাত্রলীগকর্মীরা এসে শিবিরের লোকজনকে ধাওয়া দিলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শিবিরকর্মীরা ৪-৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে দুপক্ষকে হটিয়ে দেয়। সেখান থেকে ২ শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে ছাত্রদলকর্মীরা ২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। ভোর পৌনে ৪টায় যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে আসমা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি যানবাহনে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ১২টি গাড়ি। অবরোধকারীদের হামলায় এক সিএনজি অটোরিকশা চালক ও বাসের একজন হেলপার আহত হন।
সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর বাসাবোতে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অবরোধকারীরা। সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমণ্ডি ১৫ নম্বরে অবরোধকারীরা ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকাল ৭টায় উত্তর বাড্ডায় অবরোধকারীরা ৪-৫ গাড়ি ভাঙচুরসহ ৩টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে হাতিরপুলে অবরোধকারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ করে। এতে অটোচালক অগ্নিদগ্ধ হন।
সকাল ১০টার দিকে ধলপুর ইসলামিয়া হাসপাতালের সামনে শিবিরকর্মীরা র্যাব সদস্যদের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। র্যাব ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে। দুপুর ২টার দিকে ডেমরা এলাকার সারুলিয়া বাজারে ৩টি গাড়ি ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগ করে ছাত্রদল। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মালিবাগ-মৌচাক এলাকায় ৬টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। একই সময়ে লালবাগের শায়েস্তা খান সড়কে র্যাব-১০ কার্যালয়ের সামনে অবরোধকারীরা বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানির একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়।
সারা দেশ থেকে আমাদের সময়ের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
গৌরীপুর : রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ শুরু হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পূর্বে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রেলপথে ভয়াবহ নাশকতা ঘটানো হয়। ফিসপ্লেট খুলে প্রায় ১০০ ফুট রেললাইন উপড়ে ফেলায় ভোর পৌনে ৫টায় গৌরীপুর উপজেলার ময়লাকান্দা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কমপক্ষে শতাধিক যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার কারণে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ ও জারিয়া রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল ওই দুটি রুটে ৬টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধার কাজে ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে পুনরায় ট্রেনচলাচল করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। ঘটনা তদন্তে  ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) লিয়াকত আলীকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডেমু ট্রেনে ৩টি ককটেল হামলা চালায় ১৮ দলের কর্মীরা। ককটেলের আঘাতে ট্রেনের ইঞ্জিনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গভীর রাতে কসবার সালদানদী ও মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে রেলওয়ে ব্রিজে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। গতকাল ভোরে ইমামবাড়ি স্টেশনের কাছে রেলপাত উপড়ে ফেলা হয়। মেরামত করে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরে আবারও অবরোধকারীরা কসবা ও ইমামবাড়ি স্টেশনের মাঝামাজি স্থানে প্রায় ২ কিলোমিটার রেলপাত উপড়ে ফেলে। এ সময় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কসবার ইমামবাড়ি রেলস্টেশনে আটকেপড়া ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৫টি বগিতে আগুন দেয় অবরোধকারী। এছাড়া  ভাঙচুর করে সিগন্যাল বাতি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এক পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়। পরে দুপুরে ওই এলাকায় ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ট্রেনে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ট্রেনের ইঞ্জিনে পেট্রোল ঢেলে আগুন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কন্ট্রোলরুমে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালায় অবরোধকারীরা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৮ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
নাটোর : নাটোর রেলস্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে ককটেল ফাটিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। এ সময় রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সমস্ত টেলিফোন, স্টেশন টু স্টেশন সিগনাল ভাঙচুর এবং রেলওয়ে টেলিযোগ ছিড়ে ফেলা হয়। দুপুর দেড়টায় টেলিফোন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।  অন্যদিকে সকাল বাসুদেবপুর স্টেশনে রাজশাহীগামী আন্তনগর বরেন্দ্র ট্রেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটকে রাখে অবরোধকারীরা।
বগুড়া : গতকাল সকাল ৭টার দিকে আদমদিঘি উপজেলার নসরত্পুর রেল স্টেশনে গিয়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের হুস পাইপ খুলে নিয়ে যায় ১৮ দলের সমর্থকরা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভিন্ন হুস পাইপ লাগিয়ে তা চলাচলের উপযোগি করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধের পাশাপাশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সকাল ৮ টায় সান্তাহার পোওতা রেল গেটের কাছে রেল লাইনের ওপর টায়ারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে তা নেভায়।
এদিকে বগুড়া শহরতলীর বনানীতে বিকালে র্যাব-পুলিশের সঙ্গে ১৮ দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ইউসুফ আলী নামে এক যুবদল নেতা নিহত ও  গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষে পুলিশের ৩ সদস্যও আহত হন। নিহত ইউসুফ বগুড়া শহর যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
অন্যদিকে গতকাল রাত ৯টার দিকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও একটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। ২৫ থেকে ৩০ জন এ ঘটনা ঘটায়। এর আগে সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে পুলিশ প্রহরা থাকার পরেও ককটেল হামলা চালায় বিএনপির কর্মীরা। বিএনপির মিছিল শেষে এ হামলা হয় বলে থানার ওসি ফজলুল করিম জানান।
লালমনিরহাট : মঙ্গলবার সকাল থেকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে রেলপথ অবরোধ করা হয়।  এতে লালমনিরহাটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জামালপুর : মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার কোর্ট স্টেশনে একটি লোকাল ট্রেনে হামলা চালায় অবরোধকারীরা। তারা ট্রেনের ইঞ্জিনে ভাঙচুর করে। দেওয়ানগঞ্জ স্টেশনেও একটি লোকাল ট্রেন ২০ মিনিট অবরোধ করে রাখে অবরোধকারীরা।
চাঁদপুর : সকালে শহরের আক্কাছ আলী স্কুলের সামনে রেল লাইনে আগুন ও রেলের পাত ফেলে রেখে অবরোধ করে রাখে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা।
গোবিন্দগঞ্জ :  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শালমারায় মঙ্গলবার দিনগত রাত পৌনে ৩টার রেলের ১টি স্লিপার ও অনুমান ২ শতাধিক স্লিপার পিন তুলে ফেলায় একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ১০ যাত্রী আহত ও লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে ৬ ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকে। মেরামতের পর সকাল ৯ টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দিনাজপুর : বিরামপুর রেল স্টেশনে রাজশাহী থেকে পার্বতীপুরগামী রকেট মেইলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অবরোধকারীরা।
মৌলভীবাজার : মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের আউটার পয়েন্টে ১৮ দলীয় জোটের কর্মীরা  রেল লাইনে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।
যশোর : গতকাল সকালে যশোরের রূপদিয়ায় রেললাইন অবরোধ করে আগুন দেয় ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। আগুন ও অবরোধের কারণে সেখানে আটকা পড়ে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন। একই সঙ্গে সিঙ্গিয়া স্টেশনটি বন্ধ করে দেয় অবরোধকারীরা।
রাজশাহী : গতকাল দুপুর ১২ টার দিকে চারঘাট উপজেলার সারদা রেলস্টেশনে রাজশাহী থেকে পার্বতীপুরগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এতে ৫ জন আহত হয়।
ফেনী : রাত ৯টায় শহরের এমএমসি সড়কে ১৮ দলীয় জোটের কর্মীদের ছোড়া ককটেলে গুরুতর আহত হন সিএনজিচালক মো. দুলাল মিয়া। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা : কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ বাজার এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ও ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ক্রসফায়ারে বাবুল মিয়া নামে এক রিকশাচালক নিহত ও ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন।  নিহত বাবুল মিয়া কান্দিরপাড় ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের কর্মী বলে লাকসাম পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন জানান। এদিকে কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চার্থায় ১৮ দলের সমর্থকদের সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশের সংঘর্ষে আহত ১ বিজিবি সদস্য সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। দুপুর থেকেই পুলিশের সঙ্গে ১৮ দলের সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সরকারবিরোধীরা পুলিশের একটি ভ্যান পোড়ায়।  পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে ওই এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। ১৮ দলের কর্মী-সমর্থকরা ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিজিবির ওপর হামলা চালায়। গুলিতে বিজিবির কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের সদস্য রিপন মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার জগাইমোড় থেকে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কায়েম সবুজকে আটকের জের  ধরে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে ছাকমান হোসেন (৩৫) নামে এক পথচারী নিহত ও  অন্তত ১৭ জন আহত হন। নিহত ছাকমান হোসেন সদর উপজেলার মাছুয়াকান্দি গ্রামের মৃত ছমেদ আলীর পুত্র। সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হারুন অর রশিদ খান হাসান জানান, নিহত ছাকমান হোসেন সিরাজগঞ্জের বহুলী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
সাতক্ষীরা: কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুকে (৩২) মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। উপজেলার আলাইপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ ঘণ্টা পর একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। নিহত রবিউল ইসলাম দেয়াড়া গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আ.লীগ কর্মীরা দেয়াড়া বাজারে জামায়াত-বিএনপির মালিকানাধিন ১২টি দোকান ভাঙচুর করে।
বরিশাল : গৌরনদীতে সোমবার রাতে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বিক্ষোভ চলাকালে তাদের ঈদের আঘাতে মেহেরপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মাথায় গুরুতর আঘাত পান। বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিত্সা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে গতকাল বেলা ১১ টার দিকে তিনি মারা যান।
সাভার : ঢাকার প্রবেশ পথ আমিনবাজারে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয় অর্ধশতাধিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিজিবির এক প্লাটুন সদস্য।
রূপগঞ্জ : মঙ্গলবার যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু সমর্থকদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব বিশ্বরো, বরপা, কর্ণগোপ, বলাইখা, আধুরিয়া, ভুলতা গাউছিয়া, কালাদী এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। যুবদলকর্মীরা ভাঙচু করে ১৪টি যানবাহন।
সোনারগাঁ : সোমবার রাতে কাঁচপুর কিউট পল্লী এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২টি গাড়ি ভাঙচুর ও ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
চাঁদপুর : সোমবার রাত থেকে শুরু করে অবরোধের প্রথম দিনে অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ১৮ দলের কর্মীরা। পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৭ বিএনপি-জামায়াত নেতা কর্মীকে আটক করে।
নবাবগঞ্জ : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের মহাকবি কায়কোবাদ চত্বরে স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে বিএনপি ও ১৮ দলের নেতাকর্মীরা অটো-বাইক ও হিউম্যানহলারসহ ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বিএনপির ৪ কর্মীকে আটক করে।
নারায়ণগঞ্জ : আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। অবরোধকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও ৮টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি করে। অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকে। তবে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
ভৈরব : ভৈরবে গতকাল সকালে র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের দুদফা সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এ সময় র্যাব-পুলিশ অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।  এ সময় আটক করা হয় ৪ জনকে।
গাজীপুর : অবরোধকারীরা গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আটক করে ৩ জনকে।
এদিকে অবরোধ সমর্থকরা রেল লাইনের কিছু অংশ উপড়ে ফেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল লাইনের গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কমপক্ষে ১০ যাত্রী আহত হন। রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর থেকে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ঢাকার কমলাপুরে যাচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দাউদকান্দি : মঙ্গলবার প্রথম দিনে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বিশ্বরোড, হাসানপুর, শহীদনগর, গৌরীপুর, জিংলাতলী, রায়পুর, দৌলতপুর ও ইলিয়টগঞ্জে  অবরোধ করে রাখে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় টায়ারে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার।
শিবচর : নৌ অবরোধের প্রথম দিনে কোনও তত্পরতা না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার করিডোর মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে ফেরি , লঞ্চ, স্পিডবোট পারাপার ছিল স্বাভাবিক। তবে যানবাহন ও যাত্রী সংকটে  অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
রাজবাড়ী : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। গাড়ির অভাবে ফেরি ২/১ টি চলাচল করে। নাশকতার আশঙ্কায় রাজবাড়ীর পাংশা থানার পুলিশ সোমবার রাতে পাংশার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ৭ কর্মীকে আটক করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper