ষড়যন্ত্র বিষয়ে সাবধান থাকুন!

1

সিলেটের একদল মানুষ এক উদ্ভট দাবি নিয়ে এসেছে। তাদের কথা হচ্ছে শাবি এবং যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থাকে বাতিল করতে হবে। তাঁদের দ্বিতীয় দাবিটি হচ্ছেশাবিতে সিলেটিদের জন্য ৫০% কোটা ব্যবস্থা চালু করতে হবে!! আমি প্রথমে বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নেই নাই, সিলেটে রসিক লোকের অভাব নেই তাই আমি ভেবেছি এটা বোধহয় কোন রসিকতা। আজকে জানলাম যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এটা নিয়ে দস্তুরমতো বৈঠক করেছেন আমাদের সিলেটের প্রিয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ ভাই এবং বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পীর স্যার। লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক ভাই বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও সুবিধা করতে পারেন নাই। আমাদের প্রিয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ‘স্বশিক্ষিত’ ব্যক্তি মানে উনি কোনো পাবলিক পরীক্ষার দ্বার পার হতে পারেন নাই। আগের মেয়াদে উনি যখন কাউন্সিলার ছিলেন তখন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের আশীর্বাদে তিনি কয়েকডজন স্কুল কলেজের সভাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখন কাউন্সিলর থেকে প্রমোশন পেয়ে মেয়র হয়েছেন, সুতরাং স্কুল কলেজের গন্ডি থেকে প্রমোশন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়া উচিত, যেহেতু এমন কোনো নিয়ম নেই তাই আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বৈঠক করছেন-এতে আমি অবাক হওয়ার কিছু দেখি না। তবে এখানে সমস্যা দুইটি। যদি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিতে হয় তাহলে সিলেট মেডিকেল কলেজের জন্যও আলাদা ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের দ্বার কি সিলেটিদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে? আর যদি স্থানীয় কোটা চালু হয়, তাহলে সিলেটিরা কি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না? আমাদের নেতারা হয়তো জানেন না যে সিলেটিদের মেধা অন্য জেলার লোকজনের চাইতে কম নয়। আমাদের স্কুলের আমাদের ব্যাচের যতজন ডাক্তার হয়েছে, একজন কি দুইজন বাদে বাকি সবাই ঢাকা মেডিক‌্যাল এবং সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে পড়েই ডাক্তার হয়েছে। আমাদের ব্যাচের যারা প্রকৌশলী হয়েছে তারা দেশের বাকি অঞ্চলের ছাত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই বুয়েটে ভর্তি হয়েছে। সিলেটিরা কোনো অনগ্রসর অঞ্চলের সম্প্রদায় নয় যে আলাদা কোটা চালু করতে হবে। এই ধরণের আবদার সিলেটিদের মেধার প্র্রতি অবমাননা। সিলেটি নেতাদের মেধার মাপে সিলেটি ছাত্রদের মেধা মাপা ঠিক হবে না। তবে সমস্যা যদি মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে হয়-তাহলে অনুরোধ করি দয়াকরে স্থানীয় রাজনীতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিতে ঢুকানো থেকে বিরত থাকুন। সবকিছু ধ্বংস করে ফেলতে হবে এমন তো কোন দিব্যি নেই।

ষড়যন্ত্র বিষয়ে সাবধান থাকুন!!
___________________________
একথা পরিস্কার যে ধান্দালরা প্রয়োজনমতো কার্ড বের করে নিজেদের মতো করে গেম খেলে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আবারও একই খেলা শুরু হচ্ছে। কিছু লোকজন ফেসবুকে সিলেটিদেরকে যথেচ্ছা গালাগালি করছেন এবং অন্যদিকে সিলেটে গুজব রটানো হচ্ছে যে ফেসবুকে সিলেটিদেরকে নন-সিলেটিরা গালাগালি করছে।
ফেসবুকের কথা বলে ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানো লোকরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আগেও অসংখ্যবার উত্তেজনা তৈরি করে ফায়দা লুটেছে। আগের সবগুলো ধর্ম নিয়ে হলেও এবার হয়তো আঞ্চলিকতা নিয়ে হবে।

এসব গালিবাজদের চ্যালেঞ্জ করুন, এদের ইনটেনশন সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।

শুভ মানুষেরা সবাই জানেন যে এটি একটি রাজনৈতিক কূটচাল মাত্র এবং সিলেটের সাধারণ মানুষ এই কূট রাজনীতির সঙ্গে নেই। সুতরাং উদ্ভুত ঘটনার দায়দায়িত্ব কতিপয় তথাকথিত ‘সচেতন’ ব্যক্তি বিশেষের, যারা ভার্সিটিতে তাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রন চালু করতে চান। এর সঙ্গে সিলেটের সাধারণ মানুষের সম্পর্ক নেই।
আমরা সিলেটিরা আমাদের জেলায় অবস্থিত এই ভার্সিটিটি নিয়ে গর্বিত। এই ক্যাম্পাস সারাদেশে অনেক কিছু দিয়েছে এবং আরো অনেক কিছু দিবে।
আমরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেই আছি, কতিপয় ব্যক্তির দায় সকল সিলেটিরা নেবে না।

 

— আরিফ জেবতিকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper