পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি সংঘাতের পূর্বাভাস?

10

নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে অনড়তা লক্ষ করে জাতি যখন নানা শঙ্কা-অনিশ্চয়তায় ভুগছে, তখন বাড়তি উদ্বেগের সৃষ্টি হলো ২৫ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে। সরকারের মেয়াদপূর্তির এই দিনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সমাবেশ ডেকেছে। আবার একই তারিখে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও রাজধানীতে সমাবেশ অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে।
একই শহরে একই দিনে দুটি রাজনৈতিক দল সমাবেশ ডাকতেই পারে, কিন্তু সামগ্রিক বিবেচনায় বিবদমান দুই দলের এই পদক্ষেপে পাল্টাপাল্টি শক্তি প্রদর্শনের ঝোঁক রয়েছে বলে শঙ্কা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিরোধ তীব্রতর হয়ে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নও বাস্তব হয়ে ওঠে। প্রচলিত ভাষায় ‘শোডাউনের’ এই ভঙ্গিমাটিকে অন্তত গঠনমূলক বলা যায় না; বরং এভাবে সমঝোতার অবশিষ্ট সম্ভাবনাও বিনষ্ট হতে পারে।
বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী নয় বরং অতিসামান্য, যারা জীবন-জীবিকার কঠোর সংগ্রামে রাষ্ট্র ও সরকারের কাছ থেকে ন্যূনতম সেবা ও সমর্থনটুকু পায় না, তাদের শেষ চাওয়া দুদণ্ড শান্তি। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিরোধের অবসান ঘটিয়ে সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উপায় বের করা যাবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে, শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। জনগণের এটুকু চাওয়া বড় বা অসম্ভব চাওয়া নয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের কাছে এখন পর্যন্ত তা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতাদের সুপরামর্শগুলোও তারা উপেক্ষা করে চলেছে।
আপস-সমঝোতা ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলতে পারে না। আমাদের বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীরা সেই পরামর্শই বারবার দিয়ে চলেছেন। দেশের ভেতরেও সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা-সংলাপের পক্ষে জনমতের প্রকাশ ঘটছে। প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত; যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে আলোচনা হতে পারে। তবে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারপক্ষকেই। কিন্তু সরকার সাড়া দেয়নি, সে রকম লক্ষণও দেখাচ্ছে না। অথচ সরকার মুখে মুখে বলে এসেছে, আলোচনা-সংলাপ তারাও চায়, তারা বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দিতে বলে। বিরোধী দলের অবশ্যই সংসদে যোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু তাদের সে আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে আলোচনা-সংলাপের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটে না। তবে কি সরকার একতরফা নির্বাচন করারই পণ করেছে, যে নির্বাচন প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে বিরোধী দল?
সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে মুখোমুখি সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকটতর হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সত্য হতে দেওয়া যাবে না। উভয় পক্ষকে এই মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পেতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper