ব্যারাকে ফিরে যেতে ‘চেয়েছিলেন’ এরশাদ

e

অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতারোহণকারী এইচ এম এরশাদ দাবি করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘কারণে’ তাকে ‘বাধ্য’ হয়ে ক্ষমতায় থাকতে হয়েছিল।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তোপখানা সড়কে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে ’৮০ দশকে দেশের শাসনভার গ্রহণের পক্ষে ‘যুক্তি’ দেখান তৎকালীন এই সেনাপ্রধান।

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আব্দুস সাত্তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা নিয়েছিলেন সেনাপ্রধান এরশাদ। রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলনের মধ্যেও নয় বছর ক্ষমতা ধরেছিলেন তিনি, যে কারণে পটুয়া কামরুল হাসান ‘বিশ্ববেহায়া’ শিরোনাম দিয়ে এরশাদের স্কেচ করেছিলেন।

এরশাদ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, “আপনারা রাজনীতিবিদরাই আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন। আমি তো ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ১৯৮৪ তে নির্বাচনের ঘোষনা দিলেও কোনো দল নির্বাচনে আসতে রাজি হয়নি।”

“আমার কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রশ্নই ছিল না। রাজনৈতিক দলগুলো সে সময় নির্বাচনে এলে আমার দল গঠন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

ধারাবাহিক সংগ্রামের এক পর্যায়ে ’৯০ এর গণআন্দোলনে নতি স্বীকার করে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন এরশাদ।

ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে এরশাদ বলেন, “আজ আমাকে অনেকে স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ বলে। আমার মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা হয়েছিল। কিন্তু কারো বাড়িতে সোনার খনি, টাকার বস্তা পাওয়া যায়নি।

“বিদেশে আমার কোনো টাকা নেই। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, বিদেশে এক পাউন্ড আছে, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।”

তিনি বলেন, “আজ নূর হোসেন চত্বর আর ডা. মিলন চত্বর করা হয়েছে। কিন্তু কানসাটে নিহত কৃষকদের জন্য কোনো চত্বর হয়েছে কি? কিংবা সাগর-রুনির নামে কি কোনো চত্বর হয়েছে। নূর হোসেন চত্বর আর ডা. মিলন চত্বর হলে কৃষক চত্বর আর সাগর-রুনি চত্বরও হতে হবে।”

ক্ষমতায় টিকে থাকতে শুরু থেকে বিরোধী দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর ওপর খড়গহস্ত ছিলেন এরশাদ। ১৯৮৭ সালে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন যুবলীগকর্মী নূর হোসেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান চিকৎসক নেতা ডা. মিলন।

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এরশাদ দলীয় নেতা-কর্মীদের আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার আশা দেন। তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। আগামী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমরা ক্ষমতায় গিয়ে পালন করব, ইনশাল্লাহ।”

সেনাপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে পরে জাতীয় পার্টি গঠন করে রাজনীতিতে নামেন এরশাদ। ১৯৮৬ সালে ব্যাপক কারচুপি এবং ১৯৮৮ সালে বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় যায় জাতীয় পার্টি।

এরশাদ বলেন, “আমরা এক সময় সবচেয়ে বড় দল ছিলাম, আমরা আবার সবচেয়ে বড় দল হব। আমরা আগামী নির্বাচনে জয়ী হবই হব। জাতীয় পার্টির বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকলেও আগামী নির্বাচন এককভাবে করার ঘোষণা দিয়ে আসা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে শতভাগ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আগামী নির্বাচন আমরা একক ভাবেই করব, করব, করব।”

দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ওপর দেশের মানুষ ‘আস্থা’ হারিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষ বুঝেছে, এই দুই দল (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) দেশকে দুভাগে বিভক্ত করেছে।”

“আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আমাকে সাহায্য করুন। আমরা আবারো মুক্তি নিয়ে আসব,” বলেন স্বৈরাচার হিসেবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এই নেতা।

এরশাদ ছাড়াও আলোচনায় আরো অংশ নেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মাহজাবীন মোরশেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, গোলাম হাবিব দুলাল, এস এম ফয়সাল চিশতী, মুজিবুল হক চুন্নু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মজিবুর রহমান, এম এ মান্নান, লিলি চৌধুরী প্রমুখ।

আলোচনার পর দলীয় কার্যালয় থেকে একটি শোভাযাত্রা বেরিয়ে দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে শাপলা চত্বর ঘুরে বায়তুল মোকাররম হয়ে ফিলে পুনরায় তোপখানা সড়কে এসে শেষ হয়। ছাদখোলা একটি গাড়িতে চড়ে শোভযাত্রায় অংশ নেন এরশাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper