প্রধানমন্ত্রীর ‘শান্তি মডেল’ জাতিসংঘে গৃহীত

pm

সাতশ কোটি মানুষের এই বিশ্বকে ‘পাল্টে দিতে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘শান্তি-কেন্দ্রিক উন্নয়নের’ যে মডেল তুলে ধরেছিলেন তাতে সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো।

জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ অধিবেশনের ২৯ নম্বর এজেন্ডা হিসেবে সোমবার ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সংস্থাটির সব সদস্য দেশই বাংলাদেশের এ প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানায়।

এর মাত্র পাঁচ দিন আগে অটিজম নিয়ে বাংলাদেশ মিশনের উত্থাপিত আরেকটি প্রস্তাব গ্রহণ করে জাতিসংঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রচেষ্টায় ওই প্রস্তাব তুলে বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে যায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত এ কে এ মোমেন বলেন, “বিষয়টি ঐতিহাসিক। কারণ এ রেজ্যুলেশন লিপিবদ্ধ হওয়ার সময় শেখ হাসিনার নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যা সচরাচর ঘটে না।”

২০১১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনে এই মডেল তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সারাজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই ‘জনগণের ক্ষমতায়ন মডেল’ তৈরি করা হয়েছে।

এটি একটি বহুমাত্রিক ধারণা, যার ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন, যেখানে গণতন্ত্র এবং উন্নয়নকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়া হয়েছে। এতে আছে সাতটি পরস্পর ক্রিয়াশীল বিষয় যা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এগুলো হচ্ছে ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বৈষম্য দূরীকরণ, বঞ্চনার লাঘব, সবার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঝরেপড়া মানুষদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন তরান্বিত করা এবং সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন।”

এরপর ওই বছর ২৩ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে রেজ্যুলেশন আকারে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২২ ডিসেম্বর ‘জনগণের ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়ন’ শিরোনামে ওই প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এ কে এ মোমেন বলেন, “এবারের রেজ্যুলেশনকে ঢেলে সাজানো হয়েছে চলমান পরিস্থিতির আলোকে শেখ হাসিনার দর্শনের ওপর ভিত্তি করে।”

গত ৫ ও ৬ অগাস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং গত ২০-২২ জুন ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত রাইয়ো+২০ সম্মেলনে ‘কী ধরনের বিশ্ব চাই আমরা’ শীর্ষক আলোচনার পর শেখ হাসিনার ওই মডেল আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত অধিবেশনের রেজ্যুলেশনকে আরো যুগোপযোগী করে আবারো পাস করা হলো বলে মোমেন জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আগামী বছর ‘কমিশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’এর ৫১তম অধিবেশন বসবে। সেখানে এই রেজ্যুলেশন উত্থাপন করবেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন।”

২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) এর সমাপনী সংলাপ হবে। সে সময়ও এমডিজি পরবর্তী উন্নয়ন পরিক্রমায় ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ রেজ্যুলেশনের প্রয়োজনীয় অংশ গ্রহণ করা হবে।

ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বেনিন, ভুটান, কঙ্গো, এল সালভেদর, ইথিওপিয়া, গায়ানা, হন্ডুরাস, জর্দান, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, নেপাল, নিকারাগুয়া, সৌদি আরব, ও উগান্ডাসহ ৩০টি দেশ বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে ঢেলে সাজাতে সার্বিক সহায়তা করে বলে রাষ্ট্রদূত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper