একনেকে মেট্রো রেলের অনুমোদন

mm

একনেকে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে গতি পেল নকশা জটিলতার কারণে আটকে থাকা বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্প।

তিন পর্যায়ে ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক।

আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনে কক্ষে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খোন্দকারসহ কমিটির সদস্যরা।

ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা বিশ্বের অন্য নগরগুলোর মতো করে গড়ে তুলতে বেশ আগেই মেট্রোরেল চালুর কথা শুরু হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এই নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয় এবং বর্তমান সরকার আমলে তা এগিয়ে চলে।

তবে প্রথম নকশায় বিজয় সরণী রুট নিয়ে বিমানবাহিনীর আপত্তির কারণে ঝুলে যায় এই প্রকল্পটি। দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অসন্তোষ দেখায় প্রকল্পে অর্থযোগানদাতা সংস্থা জাইকা।

পরে বিজয় সরণী রুট বাদ দিয়ে সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর গত ২ ডিসেম্বর জাইকা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রকল্পে অর্থায়নের সম্মতি দেয়।

মঙ্গলবার একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা সরকার স্থানীয়ভাবে যোগান দেবে।

একনেক বৈঠকে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আব্দুল মান্নান হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “এটা বাংলাদেশের বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। মেট্রোরেল চালু হলে এ রুট ব্যবহার করে ঘণ্টায় ৬০ হাজার মানুষ চলাচল করতে পারবে।”

একনেক সভার কার্যপত্রে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর বর্তমান জনসংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ। বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রথম নকশা অনুযায়ী উত্তরা থেকে পল্লবী, রোকেয়া সরণি, বিজয় সরণি, ফার্মগেইট, শাহবাগ, বাংলা একাডেমী, জাতীয় স্টেডিয়াম হয়ে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পর্যন্ত ছিল মেট্রোরেলের রুট।

তেজগাঁওয়ে বিমান ওঠানামায় সমস্যা হবে জানিয়ে বিমান বাহিনী আপত্তি তুললে বিজয় সরণী বাদ দিয়ে সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে খামার বাড়ি হয়ে ফার্মগেইট দিয়ে উড়াল এই রেলপথ নেয়ার আলোচনা শুরু হয়।

তবে এতে সংসদ ভবনের সৌন্দর্যহানি ঘটবে বলে নগর পরিকল্পনাবিদ অনেকে এই রুট নিয়ে আপত্তি তোলেন।

মান্নান হাওলাদার বলেন, রুটের কারণে সংসদ ভবনের মূল নকশায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না।

“সংসদ ভবনের পাশে সড়ক ভবনের জমি রয়েছে, তার ওপর দিয়ে এটা যাবে। এতে লুই কানের মূল নকশায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।”

২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এই উড়াল রেলপথ উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেইট দিয়ে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত যাবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলবে তিন ধাপে। প্রথমে পল্লবী থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত (১১ কিলোমিটার) ২০১৯ সালের মধ্যে; দ্বিতীয় পর্যায়ে সোনারগাঁও হোটেল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত (৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার) ২০২০ সালের মধ্যে; তৃতীয় পর্যায়ে পল্লবী থেকে উত্তরা পর্যন্ত (৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।

প্রকল্পের জন্য ২২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ১৬টি স্টেশন ও একটি ডিপো নির্মাণসহ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, পুনর্বাসন, পরামর্শক সেবা ইত্যাদিও রয়েছে প্রকল্পের আওতায়।

‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’ শিরোনামে মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে একনেকে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

আধুনিক নগর উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য এর আগে গঠন করা হয়েছিল ডিটিসিএ।

বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ডিটিসিএ ২০০৫ সালে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ঢাকার জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্টেশন প্ল্যান (এসটিপি) প্রণয়ন করে। এই এসটিপির আওতায় ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল মেয়াদের জন্য প্রণয়ন করা হয় ‘আরবান ট্রান্সপোর্টেশন পলিসি’।

এই নীতিমালায় ঢাকা মহানগরীতে পৃথক তিনটি রুটে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি লাইন এবং অন্য তিনটি রুটে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি লাইন স্থাপনের সুপারিশ করে।

২০০৮ সালে জাইকার একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে এমআরটি লাইন- ৬ (উত্তরা-পল্লবী-বাংলাদেশ ব্যাংক) এর মেট্রো রেল রুট নির্ধারণ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper