শেয়ারবাজার: ঈদে আনন্দ নেই অনেক বিনিয়োগকারীর

Graphics of Deadliest Crash


শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী মাসুম বিল্লাহর ঈদে বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না! ঈদের আনন্দ নেই তাঁর মনে। বাড়ি গেলে বাবা-মা, ছোট ভাই-বোনের জন্য নতুন পোশাক কিনতে হবে। কিন্তু হাতে কোনো টাকা নেই তাঁর। মাসুম বলেন, ‘অনেক কষ্টে জোগাড় করা ২৫ লাখ টাকার মধ্যে প্রথমে ১৫ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করি। শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের জন্য পরবর্তী সময়ে আরো ১০ লাখ টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করি। কিন্তু বাজারে টানা দরপতনে আরো লস হয়েছে। শেয়ার বিক্রি করে টাকা তোলার সুযোগ নেই আমার। তাই বাড়ি যাচ্ছি না।’ মাসুম বিল্লাহর বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে। মতিঝিলের এএনএফ সিকিউরিটিজ হাউসে লেনদেন করেন তিনি।
আবিদুর রহমান নামের একজন বিনিয়োগকারী বলেন, ‘আমি দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করি। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ার বিক্রি করলে ব্রোকারেজ হাউসকে আরো ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ পরিস্থিতে আমার ঈদে আনন্দ থাকে কী করে।’ কাজী ফিরোজ রশীদ সিকিউরিটিজ হাউসের বিনিয়োগকারী সাইদুর রহমান বলেন, ‘মাসখানেক আগে শেয়ারবাজার একটু চাঙ্গা হওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে টানা দরপতনের কারণে আমার শেয়ার বিক্রির মতো অবস্থানে নেই। তাই শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারিনি। সে কারণে এবার ঈদে কেনাকাটা হবে না। কার্যত ঈদও হবে না।’
টানা পতনে ঈদের আগে হতাশ হয়ে উঠেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারের ভয়াবহ দরপতনের পর আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দেশের শেয়ারবাজার। এমনকি আগের বেশি দামের শেয়ারের সঙ্গে দরপতনের পর আবারও শেয়ার কিনে সমন্বয় করায় হাত শূন্য হয়ে পড়েছে তাঁদের। এ ছাড়া কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদেরও বোনাস দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন অনেক ব্রোকারেজ মালিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এবার ঈদে বোনাস পেলাম না। তাই কিভাবে ঈদ করব, বুঝতে পারছি না। হয়তো বাড়ি যাব না। তিনি বলেন, মালিক পক্ষ এক মাসের লোকসান দেখিয়ে এক বছরের মুনাফাকে অস্বীকার করেছে! গত মাসের লোকসান দেখিয়ে আমাদের ঈদ বোনাস দেয়নি। এটা অন্যায়।
অন্য আরেকটি হাউসের অনুমোদিত প্রতিনিধি বলেন, এবার বোনাস পেলাম না। তাই বাড়ি যাচ্ছি না। খাজা ইক্যুইটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা গোলাম রসুল বলেন, ‘গত ছয় মাস আমার হাউস লোকসানে রয়েছে। তবুও আমি আমার আগের মুনাফা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে টানা দরপতনের বৃত্তেই রয়েছে পুঁজিবাজার। অনেকেই জমানো টাকা দিয়ে শেয়ার কিনে মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু লাভ হয়নি। ফলে তাঁরা এখন নগদ টাকার স্বল্পতায় ভুগছেন। অপরদিকে শেয়ারের দাম এত কমেছে, যে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজার বর্তমানে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কম্পানির দর কমতে কমতে স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে পুঁজি হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হতে চলেছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির অধিকাংশই ভালো মৌলভিত্তির। সব কম্পানির সম্পদ ও আয় ভালো। এসব কম্পানি নিয়মিত লভ্যাংশ দিচ্ছে। বিনিয়োগের মানসিকতা নিয়ে শেয়ার ধরে রাখলে কারোরই লোকসান হবে না। বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘লুটপাটকারীদের জন্য ঈদ, আমাদের জন্য নয়।’ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি রকিবুর রহমান বলেছেন, মন্দাবাজারে সবাইকে তো একটু ভোগান্তির শিকার হতে হবে। বাজার ক্রমেই স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper