হরতাল: রাজনীতির এই উত্তরাধিকার ছাড়তে হবে

hh

গত জরুরি অবস্থা জারির আগে বাংলাদেশে যে সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদয় হয়েছিল, আবার তা ফিরে আসার আলামত দেখা যাচ্ছে রাজনীতিতে। এই সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো হরতাল। এর বিরুদ্ধে জাতীয়ভাবে জনমত গড়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন মঞ্চ থেকেই তার সমালোচনা উচ্চারিত হচ্ছে। হরতালের সংস্কৃতি পুনর্বিবেচনার এই ডাক জনগণের এবং নাগরিক সমাজের শান্তিকামী অংশের। এই ডাক উপেক্ষা করা উচিত হবে না।
হরতাল-অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পারার কোনো উপায় যখন নেই বাংলাদেশে, তখন বিকল্প খোঁজাটা সময়েরই প্রয়োজন, জীবনের প্রয়োজন। দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটকে এ সত্য আজ মানতেই হবে। বিরোধী দলের হরতাল এবং সরকারি দল ও সরকারি বাহিনীর মাধ্যমে তা দমন আর দেখতে চায় না বাংলাদেশ। সংসদীয় সমঝোতার পথে প্র্রত্যাবর্তনই এই মুহূর্তের জ্বলন্ত প্রয়োজন। উভয় জোটেরই এই সত্য অনুধাবন করতে হবে।
হরতালের কারণে সাধারণ মানুষ তথা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও পেশাজীবীদের বিপুল ক্ষতি হয়। দেশের অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করে, শান্তি নষ্ট হয়। হরতালজনিত সহিংসতায় জানমালের ক্ষতিও অপূরণীয়। গণতন্ত্রের লক্ষ্য যদি হয় জনগণের জান ও মালের নিশ্চয়তা, তাহলে হরতালের বিকল্প আমাদের ভাবতেই হবে।
রাজপথ ও ময়দানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ এক কথা, আর প্রতিবাদের জন্য সারা দেশ অচল করে দেওয়া আরেক কথা। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধি পাঠানোর পরিবেশ সৃষ্টিই যদি বিরোধী দলগুলোর হরতালের লক্ষ্য হয়, তাহলে বর্তমানে যে সংসদের তাঁরা নির্বাচিত সদস্য, সেই সংসদে কেন তাঁরা যাবেন না? ক্ষমতাসীন সরকারও যদি ক্ষমতার দর্পে সংসদীয় সমঝোতার পথে বাধা হয়ে থাকে, তাহলে কেমন করে তাঁরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করবেন?
অতীতে সহিংসতা আরও সহিংসতা ও বিপর্যয় টেনে এনেছে; সেই শিক্ষা যেন সরকার ও বিরোধী দল মনে রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper