সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট

ab

আমরা যারা সাধারণ নাগরিক, রাষ্ট্রের কোনো উঁচু বা গুরুদায়িত্বপূর্ণ পদে নেই, তারা আশঙ্কা করছি, অল্পকালের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। আশঙ্কাটি যদি অমূলক হয়, তা হবে সবচেয়ে সুখের কথা। সংকটটি সাংবিধানিক সংকট নয়—রাজনৈতিক সংকট। রাজনৈতিক সংকট আর সাংবিধানিক সংকট একেবারেই দুই রকম জিনিস। আগে দু-একবার সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছিল। তা থেকে উত্তরণের পথ রাজনৈতিক নেতারাই খুঁজে বের করেছেন। এবারের সংকট রাজনৈতিক। এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও রাজনীতিকদেরই বের করতে হবে। অন্য কোনো শ্রেণীর মানুষের কিছুই করার নেই। প্রকৌশলী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ঠিকাদার, পীর-ফকির, কলাম লেখক, বা বেশ্যার দালাল রাজনৈতিক সমস্যার কোনো সমাধানই দিতে পারবেন না। রাজনীতিকদের সৃষ্ট সমস্যা রাজনীতিকদেরই সমাধান করতে হবে। যেমন, এক চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসাজনিত জটিলতা অন্য আরেক চিকিৎসককেই সঠিক চিকিৎসার দ্বারা আরোগ্য করতে হয়।
একাত্তরে বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর অধীনে। ষোলোই ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হওয়ার পর থেকে সংবিধান প্রণীত হওয়া পর্যন্ত সময়টি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি ক্রান্তিকাল। অস্থায়ী বিধানে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে। ’৭৩-এ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারই দেশের প্রথম সংসদীয় পদ্ধতির সরকার। তার আগের দিন পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সরকার ছিল, তার সাংবিধানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক, তা ছিল জনগণ অনুমোদিত অর্থাৎ জনসমর্থিত সরকার। যে সরকারের জনসমর্থন থাকে, তার সাংবিধানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক, তাকে গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবেই বিবেচনা করা যায়।
সংবিধান ও গণতন্ত্র ছাড়াও রাষ্ট্র চলে। বৈদেশিক শত্রুর হাত থেকে শাসকেরা যদি রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে পারেন, রাষ্ট্রের ভেতরে যদি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারেন, তাহলে সর্বজনস্বীকৃত শাসনতন্ত্র ছাড়াও অন্তত কিছুকাল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব। অলিখিত বা লিখিত, স্থায়ী বা অস্থায়ী আইনকানুন ছাড়া বেশি দিন কোনো ভূখণ্ড স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারে না। অভ্যন্তরীণ গোলযোগে রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, বিদেশি শত্রুর আক্রমণে অন্যের পদানত হতে পারে।
পাকিস্তানে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থায়ী শাসনতন্ত্র রচনার জন্য ১৯৭০-এর ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন হয়। জেনারেল ইয়াহিয়ার সরকার ছিল সামরিক সরকার—সাংবিধানিক সরকার নয়। বাস্তবিক পক্ষে তিনি ছিলেন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। পিপলস পার্টি বা মুসলিম লীগ তাঁর পছন্দের দল হলেও হতে পারে, কিন্তু তাঁর নিজের কোনো দল ছিল না নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুস সাত্তার স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেন। নিরপেক্ষভাবে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করায় তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন।
ইয়াহিয়া-টিক্কার প্রার্থীরা যদি ’৭০-এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তাঁরা বহু আসন পেতেন। তাতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না। বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা কিছুকালের জন্য হলেও নস্যাৎ হয়ে যেত। সুতরাং দেখা যায়, অনেক সময় অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে থাকে। অন্যদিকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও নির্বাচিত সরকারও প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে অকার্যকর করে দেয়। সত্তরের দশকে আওয়ামী লীগ সরকার এবং নব্বইয়ের দশকে ও এ শতকের প্রথম দশকে বিএনপি সরকারকে সেই কাজটি করতে দেখা গেছে। তার ফলেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জনসমর্থন পায়।
নির্দলীয় কেয়ারটেকার সরকার শুধু যদি নির্বাচন পরিচালনা ও নির্দিষ্ট অল্প সময়ের জন্য হয়, তাহলে তা সমর্থনযোগ্য, তা না হলে নয়। ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের সরকার ছিল দৈব-সরকার—নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। সাহাবুদ্দীন আহমদের সরকার ছিল সমঝোতার অস্থায়ী সরকার। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও লতিফুর রহমানের সরকার ছিল সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল মতলবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যার পেছনে কলকাঠি নাড়াচ্ছিল সদ্য বিদায়ী বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রেতাত্মা। তার পরও সে সরকারকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ বলা যাবে না।
সব সাংবিধানিক সরকারই যে ভালো সরকার হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সব সাংবিধানিক সরকারেরই জনসমর্থন থাকবে, তা-ও নয়। কিন্তু জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে থাকলে আর কী করার থাকে! উদ্দীনীয় সরকার ছিল প্রেরিত পুরুষদের মতো একটি প্রেরিত সরকার। কীভাবে সেই সরকার বাংলার মাটিতে প্রেরিত হয়েছিল, তা হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না। আমরা যেটা জানি তা হলো, ওই দুই বছরি সরকার ছিল একটি মতলববাজি অবৈধ প্রশাসন। যে আশা নিয়ে তারা এসেছিল, জনমতের চাপে তা অপূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিক করাসহ কিছু কাজ তারা করেছে, যা মানুষ প্রশংসা করেছে।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের ইতিহাস দীর্ঘ ও রক্তাক্ত এবং সে স্মৃতি এখনো অনেকের মন থেকে মুছে যায়নি। প্রথম বিএনপি সরকারের সময় কয়েকটি উপনির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীকে কারচুপির মাধ্যমে বিজয়ী করা হয়। দুর্নীতি-অনাচারের সঙ্গে ওই সব কারচুপির নির্বাচন মানুষকে সরকারবিরোধী করে তোলে। সেই সুযোগের ষোলোআনা সদ্ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো।
অব্যাহত সংসদ বর্জন, হরতাল-অবরোধ প্রভৃতির কারণে জনজীবন বছর দুই-আড়াই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। অর্থনীতি ভেঙে পড়ার জো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও নেতারা বলছিলেন, সংবিধানের বাইরে তাঁরা এক চুলও নড়বেন না। বিরোধী দলের নেতারা বললেন, আপনাদের নড়িয়ে ছাড়ব। লাশ পড়তে লাগল রাজপথে। খুব বেশি নয়, ৯০ জনের মতো হবে। সংবিধান মান্যকারীরা একটি নির্বাচনও করেন ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারিতে। নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী দলগুলো নির্বাচনকেন্দ্রে ‘কারফিউ’ জারি করে। কারফিউ অমান্যকারীর শাস্তি প্রাণদণ্ড। ভয়ে ভোটারদের রক্ত হিম হয়ে যায়। তবু অতি সাহসী অথবা বিএনপিপন্থী (জামায়াত তখন আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছিল) ভোটারদের অনেকে ভোটকেন্দ্রে দোয়াদরুদ পড়তে পড়তে গিয়েছিলেন। দল থেকে ২০ শতাংশ ভোট পড়ে। খালেদা জিয়ার দলই প্রায় সব আসন পায়। দ্বিতীয়বারের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেন। তাঁরা চলমান থাকলেও দেশ অচল হয়ে পড়ে। সংবিধান তাঁরা না মেনে ছাড়বেন না। তাই সংবিধানের তেরোতম সংশোধনীটা তাঁরাই করেন। বিরোধী দলের দাবি জয়যুক্ত হয়। প্রায় ৯০ জন নাগরিকের অমূল্য রক্ত দেওয়া সার্থক হয়।
চুয়ান্ন সালের নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশের কোনো দলীয় সরকারের করা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। ২০০৮ সালের নির্বাচন করে উদ্দীনদের অসাংবিধানিক সরকার। অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হয়ে মহাজোট সরকার সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। এখন বিরোধী দল বলছে, ওই ব্যবস্থার পুনর্বহাল অথবা ‘অন্য যেকোনো নামে’ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চাই। নিয়তির কী পরিহাস! ইতিহাসের কেমন পুনরাবৃত্তি।
কয়েকটি পৌর নির্বাচন ও উপনির্বাচনের ফলাফলে মহাজোট সুস্পষ্ট বার্তা পেয়ে গেছে। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার থাকলে পরোয়া করার কিছু নেই। কোনো দল বা জোট একবার পরাজিত হওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। জনগণের মন জয় করে আবার ক্ষমতায় আসা খুবই সহজ। কিছুদিনের জন্য মনটা খারাপ থাকে।
সুপ্রিম কোর্টের ‘রায়ের আলোকেই’ নাকি মহাজোট সরকার সংবিধান সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে এবং এই সংশোধনীর ফলে সরকারের পোয়াবারো। সরকারি নেতারা বলছেন, সংবিধানের বাইরে তারা চুল পরিমাণ নড়চড় করবেন না। সুপ্রিম কোর্টের যে রায়ের আলোকে পঞ্চদশ সংশোধনী হয়েছে, তাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে। সরকারি দলের বড় বড় বিশেষজ্ঞও সেই কথাটি অনুধাবন করেছেন কি না জানি না। করলেও অর্ধেকটা করেছেন। কথাটি এই।
সামরিক শাসকেরা ক্ষমতায় থাকার জন্য নিজেদের বৈধতা সৃষ্টি করতে সংবিধানে সুবিধাজনক পরিবর্তন আনেন, যা করার নৈতিক অধিকার তাঁদের নেই। সামরিক শাসকদের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য, তা রাজনীতিকদের বেলায়ও ১০০ ভাগ সত্য। বেসামরিক শাসকেরা ক্ষমতায় থাকার জন্য নিজেদের বৈধতা নিজেরা দিতে পারেন না সংবিধান সংশোধন করে। ওই রকমের কাজকে অর্থাৎ সামরিক শাসকদের ক্ষমতা গ্রহণ ও ক্ষমতায় টিকে থাকাকে বৈধতা না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রায়ে।
কোনো দেশের সংবিধান হলো জনগণের দলিল—বর্তমান ও অনাগত কালের সম্পত্তি। জনগণের স্বার্থে সংবিধানের কিছু জায়গা সময় সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। যখন সরকারবিশেষকে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী করতে অথবা দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে সংবিধানের পরিবর্তন আনা হয়, তখন তা জনগণের দলিল থাকে না। সংবিধান দলীয় স্বার্থরক্ষার দলিল নয়। জাতির দলিল। জাতি বলতে কোনো বিশেষ গোত্রকে বোঝায় না।
বাংলাদেশের কোনো সরকারই সহজে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। জনগণের ধাক্কার প্রয়োজন হয়। লগি, বৈঠা, কাটারাইফেল, ককটেল, চাপাতি, রামদার প্রয়োজন হয়। সরকারও ক্ষমতা স্থায়ী করতে নানা কৌশল খোঁজে। সবচেয়ে নির্দোষ কৌশল হলো সংবিধান সংশোধন করা।
কিন্তু আমরা অভিজ্ঞতা থেকে জানি, দলের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে রচিত-সংশোষিত সংবিধান দলের ও সরকারের শেষ পর্যন্ত উপকার করতে পারে না। সরকারকে রক্ষা করতে পারে না। তেমন দৃষ্টান্ত নেই। খারাপ সংবিধান দিয়েও দক্ষ রাজনীতিকেরা ভালোভাবে রাষ্ট্র চালাতে পারেন। ভালো সংবিধানও অসৎ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতারা অর্থহীন দলিলে পরিণত করেন। ’৭২-এর সংবিধান মন্দ ছিল না। কিন্তু তা থেকে ওই সংবিধানের রচয়িতারাও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারেননি। দলীয় স্বার্থে যে চতুর্থ সংশোধনী লেখা হয়, তা ওই সরকারকেই উপকারের পরিবর্তে সর্বনাশ করে। দলীয় স্বার্থে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান যে পঞ্চম সংশোধনী করেন, তা তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি। সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করে জেনারেল এরশাদ মনে করেছিলেন ক্ষমতা আজীবন তাঁর হাতে রাখবেন। বরং ওই সব সংশোধনীই তাঁর বিপর্যয় ঘটায়। তৈরি করে রাজনৈতিক সংকট ও অচলাবস্থা।
সব সময় একই রকম সংকট হয় না। একেক সময়ের সংকটের একেক ধরন। ১৯৯০-তে এক রকম। ১৯৯৬-তে অন্য রকম। ২০০৬-৭-এ আরেক রকম। কোন সংকটের মাত্রা কতটা, তা পরিমাপ করা দরকার। দেখতে হবে সংকটের কতটুকু সমাধানযোগ্য।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ওই জাতীয় কোনো প্রশাসনের দাবি কার, সেটা বিবেচনার বিষয় নয়। হোক তা বিএনপি বা অন্য কারও দাবি। দাবিটি যুক্তিসংগত কি না, ওই দাবি বাস্তবায়নে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত হবে কি না, সেসব বিষয় বিবেচনা করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংবিধানের সাফাই গেয়ে, বিরোধী দলের দাবি বলে তাকে অগ্রাহ্য করা সুবিবেচনার পরিচয় নয়। দেশটা কোনো দলের নয়, সে দল যতই দেশপ্রেমিক হোক। দেশটা অদেশপ্রেমিকদেরও।
সমস্যা কে সৃষ্টি করেছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান কে করল, সেটাই মুখ্য। সমস্যার সৃষ্টিকারীকে মানুষ ক্ষেমাঘেন্না করে, সমাধানকারীকে সশ্রদ্ধচিত্তে মনে রাখে। সমস্যার সমাধানকারী আসন পান ইতিহাসে, সমস্যার স্রষ্টার স্থান হয় আস্তাকুঁড়ে অথবা নর্দমায়।
কোনো সংকট যখন সাংবিধানিক, তখন তার সমাধান খুঁজতে হবে সাংবিধানিক উপায়ে। যখন কোনো সংকট রাজনৈতিক, তখন তার সমাধানের পথটি হতে হবে রাজনৈতিক। রাজনৈতিক সমাধানের উপায় বিবদমান পক্ষের মধ্যে আলোচনা। সবচেয়ে বেশি যুক্তি যে পক্ষ দেবে, তাদের দাবি অগ্রগণ্য। তাতে অন্য পক্ষের হার বা পরাভব নয়। শত্রুরও সবচেয়ে শক্ত যুক্তিটি মেনে নেওয়ার মধ্যে পরাজয় নেই। তাতে আছে প্রজ্ঞার পরিচয়। ন্যায়নিষ্ঠার পরিচয়। শুভবুদ্ধি ও মহত্ত্বের পরিচয়।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper