আইনজীবীর সঙ্গে অশোভন আচরণে বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা

tr

ঢাকা: ঢাকা বারের একজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় ক্ষমা চাইলেন ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আরিফুর রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে উপস্থিত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগরের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ সময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হোসেনসহ সমিতির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী আবু সাঈদ সাগরের হাত ধরে বিচারক দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বলেন, “অনিচ্ছাকৃত ভুলে আমি আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।”

এ ব্যাপারে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, বিচারকের বিভিন্ন সমস্যা এবং আইনজীবীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।

এরপর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে মাগরিবের আজান পর্যন্ত তিনি বিচারকাজ পরিচালনা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬৪/০৭ নম্বরের পিটিশন মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ওই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবু সাঈদ সাগর।

ওইদিন ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর আদালতে একটি মামলা সম্পর্কে কিছু বলার জন্য অনুমতি চান। কিন্ত বিচারক সাক্ষ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বক্তব্য শুনবেন না জানালে এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় বিচারক আরিফুর রহমান বলেন “আপনি তো বেয়াদব। বললাম সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর শুনবো।”

বেয়াদব বলায় ওই সময় আইনজীবী সাগর বলে ওঠেন “আপনি তো, আরো বড় বেয়াদব। জেলা জজ হয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কিভাবে আচরণ করতে হয় জানেন না।”

এরপর বিচারক ওই আইনজীবীকে পুলিশ ডেকে হাতকড়া পরানোর হুমকি দেন এবং এজলাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

বিষয়টি আদালতে জানাজানি হলে ঢাকার বারের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ভুইয়া, কার্যকরী কমিটির সদস্যসহ প্রায় ৪০/৫০ জন আইনজীবী ওই বিচারকের এজলাসে যান। এ সময় তারা বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আদালতের বিচার কাজ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

কিন্তু বিচারক তাদের কথা না শুনে বিচার চালিয়ে যেতে থাকলে অপরাপর আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি কটূক্তি করেন, গালাগালি দেন এবং তাকে নামতে বাধ্য করার জন্য বিচারকের উদ্দেশ্যে মামলার কজলিস্ট ও নথিপত্র ছুঁড়ে মারেন। এ সময় বিচারক এজলাস থেকে নেমে পড়েন।

এরপর থেকে এ বিচারকের আদালত বর্জন করে আসছিলেন আইনজীবীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper