ডেসটিনির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

Destiny

ঢাকা, নভেম্বর ২৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটক)- অর্থ পাচারের দুটি মামলায় ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডসহ গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

ডেসটিনির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড, ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন, ডেসটিনি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন, বৈশাখী লিমিটেড, দৈনিক ডেসটিনি, ডেসটিনি ডেভলপারস, ডায়মন্ড বিল্ডারস, ডেসটিনি এনভায়রনমেন্ট, ডেসটিনি মেডিক্যাল কলেজ।

এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় তাদের ২৪টি রাবার বাগান আছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ৭৭টি। ওই গাড়িগুলোর মধ্যে বৈশাখী মিডিয়ার কাজে ২১টি, ডেসটিনির ট্রি প্লানটেশন প্রকল্পে আটটি ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডে ২৫টি গাড়িসহ ৩৫টি প্রতিষ্ঠানেই ওই গাড়িগুলো ব্যবহৃত হয়।

গাড়িগুলো যাতে কোনোভাবেই বিক্রি না করতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নজরদারি রাখতে আদেশ দিয়েছে আদালত।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ডেসটিনি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় দায়ের করা দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২১ নভেম্বর কোম্পানি ও তিন আসামির সম্পত্তি জব্দের আবেদন করেন।

ওই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক ডেসটিনি গ্রুপ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন ও তার স্ত্রী ফারাহ দীবার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তের স্বার্থে ডেসটিনি গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা যে কোনো সময় তা হস্তান্তর করতে পারেন।

আদালত বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার আদেশ দেয়া হলো। ডেসটিনির জব্দ করা ওই সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হোক।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঢাকাসহ দেশের ১৬টি জেলায় থাকা ডেসটিনি গ্রুপের জমি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে, যাতে ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিরা তা হস্তান্তর বা বিক্রি করতে না পারেন।

ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, ঝিনাইদহ, কুমিল্লা, বাগেরহাট, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ফেনী, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজবাড়ীতে ডেসটিনির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমি রয়েছে বলে তৌফিকুল ইসলাম জানান।

এ ছাড়া ডেসটিনি কো-অপরারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটির কার্যক্রম আছে ঢাকাসহ আটটি জেলায়। বাকি জেলাগুলো হলো রাজশাহী, খুলনা, মেহেরপুর, রংপুর, মুন্সিগঞ্জ, কক্সবাজার ও রাজবাড়ী।

এছাড়া ঢাকায় রফিকুল আমিনের ১৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডেসটিনির ১১শ কোটি টাকা হস্তান্তর করার করার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে জবানবন্দি দেন রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেন। এছাড়া ডেসটিনি গ্রুপভুক্ত ডায়মন্ড বিল্ডার্সের প্রধান কর্মকর্তা দিদারুল আলমও ২৪৩ কোটি টাকা হস্তান্তর করার কথা স্বীকার করেন।

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দুটি দুদক দায়ের করে করে।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্লান্টেশেন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ পাচারের ‘প্রমাণ’ পেয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রি প্লানটেশন প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা এবং এমএলএম অ্যাকাউন্ট থেকে এক হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২ অক্টোবর দুদকের আবেদনে ডেসটিনি কর্মকর্তাদের ৫৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেয় একই আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper