প্রতারণা মামলায় অবশেষে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী গ্রেফতার

pic   1.jpg 3

৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কথিত সাংবাদিক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে দক্ষিণখান থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। প্রতারণা মামলার আসামি সালাহউদ্দিন শোয়েবের স্ত্রীকেও পুলিশ খুঁজছে বলে জানা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘ব্লিজ’ নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক দাবিদার সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী এর আগেও রাষ্ট্রদ্রোহী ও প্রতারণা মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আসছে, যা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। মামলার বাদী বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (বিসিআইএস) মহাসচিব এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ব্যবসা করার কথা বলে তার কাছ থেকে ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছেন। টাকা নেয়ার পর তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে আদালতে মামলা করলেও ওই মামলায় সালাহউদ্দিন শোয়েবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দক্ষিণখান থানার ওসি লোকমান হেকিম জানান, প্রতারণা মামলায় উত্তরার বাসা থেকে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীকে গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৪২০, ৪১৯ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছে।

এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ব্লিজ নামে একটি ইংরেজি পত্রিকায় তার এক পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লিখেন। ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চলতি বছরের ১২ মার্চ তার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৬৯ লাখ টাকা নেয় সালাহউদ্দিন শোয়েব। ব্যবসার লভ্যাংশ হিসেবে সাজ্জাদ হোসেনকে প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সালাহউদ্দিন শোয়েব। এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুই কিস্তিতে টাকা দিয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে ব্র্যাক ব্যাংক দক্ষিণখান শাখা থেকে পে- অর্ডারের মাধ্যমে ৯ লাখ ও ৬০ লাখ করে দুই কিস্তিতে পাঠানো টাকা সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ও তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরী জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করেন।

এম সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, সালাহউদ্দিন শোয়েব বলেছিলেন, চীন থেকে সয়াবিন তেল এনে বাংলাদেশে ব্যবসা করবেন। কিন্তু টাকা নেয়ার পর থেকেই তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বিভিন্ন সময় ই-মেইল ও এসএমএস করতেন। তার মোবাইল ফোনে অথবা বাসায় ফোন করে পাওয়া যেত না। এরপর গত ১০ জুলাই ই-মেইল ও এসএমএস করে সালাহউদ্দিন শোয়েব জানান, চীন থেকে তেল এনে বিক্রি করে মাত্র ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। সালাহউদ্দিন শোয়েবের প্রতারণা বুঝতে পেরে এম সাজ্জাদ হোসেন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। এরপর তিনি টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন সালাহউদ্দিন শোয়েব। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টাকা নেয়ার পরই তার চেহারা বদলে যায় এবং আসল রূপ ধরা পড়ে। তিনি টাকা পেয়ে মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময় মেইল ও এসএমএস করে যোগাযোগ করতে হতো। মামলার বাদী সাজ্জাদ হোসেন জানান, তার প্রতারণা বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি কয়েকটি তারিখ দেন। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি গত ২১ অক্টোবর সালাহউদ্দিন শোয়েব ও তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী এর আগেও পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা এবং দেশ থেকে তথ্য পাচারের অভিযোগে গত বিএনপি সরকারের আমলে তাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছিলেন গোয়েন্দারা। হুমকি দেয়ার অভিযোগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর সঙ্গে দেশি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন মাফিয়া চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে এ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে।
 
All the case numbers including brief history of the cases are appended below:
1. Was arrested by the Police of the then Zia International Airport Thana. The case no of the Thana is GR 20/2004. After going to the court the case no is 377/2005. The case is mainly on Anti-state activities.
2. Was arrested on a case of Passport Forgery and was tried and awarded jail for 04 months. He was in jail for 04 months. The case number was 08/12/2003.
3. Was again arrested on a case of cheating, fraudulence etc on 07 November 2012, Dakhinkhan Thana Case No: 42 (10) 12 on the CMM Court Order No: 648, dated 22/10/2012. He is still in the jail and under trial without bail.
4. He has been charged by the New York Police Department with Grand Larceny via Fraud in March, 2010.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper