সাপ-ওঝার খেলা বন্ধ করুন: শেখ হাসিনা

Sheikh-Hasina_2

কক্সবাজারের বৌদ্ধপল্লী সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘সাপ হয়ে দংশনের পর ওঝা হয়ে ঝাড়ার’ খেলা বন্ধ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় একটা কথা আছে না- সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ে… আমি বিএনপি নেত্রীকে বলব- আপনি সর্প হয়ে দংশন করেন আর ওঝা হয়ে ঝাড়েন। এই খেলাটা বন্ধ করেন।”

“বাংলার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন- তা আর আমরা দেব না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুরক্ষিত এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে”, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শনিবার রামু সফরে গিয়ে যে অভিযোগ করেছেন- এর মধ্য দিয়ে তারই জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে গেছেন। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে- তিনি ঘটনার কতদিন পর সেখানে গেলেন।”

রামু দেশের ‘বাইরে না ভেতরে’- এমন প্রশ্ন রেখে সরকার প্রধান বলেন, “উনি চীনে গেছেন। উনি ভারতে গেছেন। তারপর, উনি রামুতে গেছেন। তারপর, আমাদের কী কী করতে হবে- সে দাবিও করেছেন।”

ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধ বসতি ও মন্দিরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় উগ্রপন্থীরা।

এরপর ৮ অক্টোবর ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও ঘর-বাড়ি পরিদর্শন করে হামলার ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর এক মাস পর ওই এলাকা পরিদর্শন করে রামুতে আয়োজিত এক স্মপ্রীতি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘থলের বিড়াল’ বেরিয়ে আসার ভয়ে সরকার রামুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি।

তিনি বলেন, “আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, রামুর বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় সরকারি দল জড়িত। তাদের এখন মায়াকান্না ও বেড়াল কান্না করে লাভ হবে না। অপরাধীদের ধরুন, শাস্তি দিন।”

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জনগণের জন্য কী কী করতে হবে তা আমাদের শেখাতে হবে না।”

রামুতে ক্ষতিগ্রস্ত প্যাগোডাগুলো নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে খালেদাকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, “উনারতো আবার ভুলে যাওয়ার ইতিহাস আছে। উনার দিল্লি গিয়ে কী হলো- ৯১ সালে ক্ষমতায় থাকতে উনি ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানি চাইতে ভুলে গিয়েছিলেন। এবার তিস্তা আর টিপাইমুখের কথাও ভুলে গেছেন?”

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দিয়ে কোনো দেশের উন্নয়ন হয় না।

“আমরা কঠোর হস্তে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর করেছি। তার সুফল আমরা পাচ্ছি। এর ধারাবাহিকতা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”

যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ।

এর আগে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র চত্বরে পৌঁছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক চৌধুরী।

মূল মিলনায়তনে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। মিলনায়তনের বাইরে ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ শীর্ষক বইয়ের ছবি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে যুবলীগ।

অনুষ্ঠানে ওই বইয়ের অ্যাপল ও অ্যনড্রয়েড অ্যাপ উদ্বোধন করেন।

যুবলীগের আলোচনা সভার মূল ভাবনা ‘জনগণের ক্ষমতায়নের’ প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের ক্ষমতায়ন তখনই নিশ্চিত হবে যখন জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে। জনগণই ঠিক করবে- কে ক্ষমতায় থাকবে।”

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে- জনগণ ভোট দেবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

সুষম উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “ধনীরা শুধু ধনী হবে, গরিবরা শুধু গরিব হবে- তা গ্রহণযোগ্য নয়। সুষম উন্নয়ন হবে। ধনী গরিবের কোনো পার্থক্য থাকবে না।”

যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

যুবলীগের ৪০ বছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখান জন্য কয়েকজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট নেন সাকিব আল হাসান, এভারেস্ট জয়ের জন্য মূসা ইব্রাহিম, দৃষ্টিহীনদের জন্য ‘মঙ্গলদীপ’ এবং ‘আই সার্চ’ অ্যাপ্লিকেশন প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমিন সজীব এবং ইলেকট্রনিক ভোটেং মেশিনের উদ্ভাবক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সোহাগ।

উপস্থিত না থাকায় বাংলাদেশ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণকারী প্রথম নারী নিশাত মজুমদারের বাবা আব্দুল মান্নান মজুমদার এবং পাটের জীবন রহস্য উদ্ভাবনকারী অধ্যাপক মাকসুদুল আলমের পক্ষে ড. মনজুরুল আলম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এছাড়া মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণকারী বাংলাদেশের আরেক নারী ওয়াসফিয়া নাজনিনকেও সম্মাননা দেয়া হয়।

পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে ফেইসবুকে যুবলীগ আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিপন শিকদার, সৌমেন রায় এবং আদনান সৌমিক সোহানের হাতেও পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper