আ.লীগকে ‘একঘরে’ করার আহ্বান খালেদার

k

বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়- এমন মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ‘একঘরে’ করার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

কক্সবাজারের উখিয়ায় সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনের পর রোববার এক সম্ú্রীতি সমাবেশে তিনি বলেন, “দুর্নীতি ও লুটপাট করে সরকার দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছে। তাদের হাতে কোনো ধর্মের লোকজন আজ নিরাপদ নেই। বৌদ্ধদের শত বছরের মন্দির-উপাসনালয়ে তারা আগুন দিয়ে লুটপাট করেছে।”

“তাই আওয়ামী লীগকে একঘরে করে দিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নতুনভাবে দেশকে গড়ে তুলতে হবে”, বলেন খালেদা জিয়া।

উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে এই সম্ú্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আসা নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন সম্ú্রদায়ের প্রতিনিধিরা এ সমাবেশে অংশ নেন।

উখিয়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতি শুভ ভিক্ষু, জ্যোতি আর্য ভিক্ষু, ইদ্র বংশ ভিক্ষু, দেবপ্রিয় শ্রামন, সুমানন্দ ভিক্ষু, বিজয় বংশ ভিক্ষু, তারিতানন্দ শ্রামনসহ স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

ফেইসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধ বসতি ও মন্দিরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় উগ্রপন্থীরা।

এরপর ৮ অক্টোবর ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও ঘর-বাড়ি পরিদর্শন করে হামলার ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এর জবাবে বৌদ্ধ বিহারে হামলার জন্য সরকার ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে দায়ী করে খালেদা জিয়া উখিয়ার সমাবেশে বলেন, “বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে ভালো মানুষজনকে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগের যে নেতা বৌদ্ধ বিহার হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে, তাকে বিদেশ সফরের সঙ্গী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই তাকে বলব, যাকে নিয়ে বিদেশ সফর করেছে, তাকে ধরুন।”

“প্রধানমন্ত্রীর হাতে রক্ত আর রক্ত। তিনি খুনীদের নিয়ে চলেন। এই প্রধানমন্ত্রীর হাতে জনগণের জীবন রক্ষা পাবে না”, বলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

অবশ্য ওই হামলার জন্য বিরোধী দলীয় জোটকে দায়ী করে রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বিএনপি নেত্রীকে বলব- আপনি সর্প হয়ে দংশন করেন আর ওঝা হয়ে ঝাড়েন। এই খেলাটা বন্ধ করেন।”

খালেদা জিয়া উখিয়ায় পাল্টা অভিযোগে বলেন, “আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষ মুখোশ পড়ে হিন্দু মন্দির লুটপাট ও তাদের সম্পত্তি দখল করেছে। খৃষ্টানদের ওপর অত্যাচার করেছে। এবার বৌদ্ধ বিহারে হামলা চালিয়ে তাদের মন্দির ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষতার চেহারা।”

‘বিএনপিকে ভোট দিন’

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণকে ভয় পায় বলেই সংবিধান সংশোধন করে ‘দলীয় সরকারের অধীনে’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি সরকারের হাতে থাকা সময়ের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তা না হলে আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অবশ্য একইসঙ্গে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে ভোটও চেয়েছেন চেয়ারপারসন।

উখিয়াবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনে আপনারা ভুল করলে কষ্ট পেতে হবে। তাই শাজাহান চৌধুরী (সাবেক সাংসদ), যিনি উখিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন, তাকে আগামীতে ভোট দেবেন।”

আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ উন্নতি হবে। ঘরে ঘরে চাকরি না দিতে পারলেও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করব। কৃষক যাতে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়- সে ব্যবস্থা করা হবে।”

২০ মিনিটের বক্তৃতায় খালেদা জিয়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পাশাপাশি সরকারের ‘ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের’ চিত্র তুলে ধরেন।

জনসভায় অংশ নেয়ার আগে বিরোধী দলীয় নেতা উখিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মড়ির্চা দীপাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন। তিনি বিহারের ভিক্ষুদের কাছে হামলার রাতের বিবরণ শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, সহসভাপতি এম মোরশেদ খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস কাদের চৌধুরী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বৌদ্ধ ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্যোতি রঞ্জন ভিক্ষু, উখিয়া থানা বিএনপির সভাপতি কাজী রফিক উদ্দিন জনসভায় বক্তব্য দেন।

উখিয়ার জনসভা শেষ করে দুপুর আড়াইটার দিকে বিরোধী দলীয় নেতা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ যাত্রা বিরতির পর তিনি সড়ক পথে বিকালে ঢাকা রওনা হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper