বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি: ১২৯ যাত্রীর হদিস নেই, সাগরে ভাসছে লাশ!

Bay_Of_Bengal_Bangladesh_36435

শনিবার টেকনাফের কাটাবনিয়া ও শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট হতে ১৩৫ জন যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হওয়া মালয়েশিয়াগামী ডৃবে যাওয়া ৬ জনের ফিরে আসার খবর পাওয়া গেলেও বাকীদের ভাগ্যে কি পরিনতি ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত করা যাচেছ না। এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ এদের উদ্ধারে কোন ব্যাবস্থা নেননি এমন অভিযোগ স্বজনদের। তবে নিখোঁজ যাত্রীদের আত্মীয় স্বজনরা কয়েকটি ফিশিং ট্রলার নিয়ে সাগরে এদের সন্ধানে বের হয়। সাগরে ভাসমান লাশের সন্ধান জেলেদের কাছ থেকে অনেকে পেলেও প্রশাসনিক বিভিন্ন ঝামেলার ভয়ে তীরে আনছেনা বলে জানিয়েছেন শাহপরীরদ্বীপ মাঝের পাড়ার নিখোঁজ রশিদুল্লার ভাই আবদু রশিদ। অজানা আতংকে সঠিক খবর দিচেছ না কেউ কেউ।

জানা যায়, শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়ার জাহাঙ্গীর, মন্জুর,মাজের পাড়ার জায়েদ উল্লাহ, সিরু, কোণারপাড়ার আবুল ইসলাম, লালুমাঝি, রশিদুল্লাহ মাঝি,কাটবনিয়ার ছিদ্দিক, আব্দুল্লাহ, মৌঃ বশির, ঝিনা পাড়ার মৌঃ ইব্রাহিমের নেতৃতে একটি সিণ্ডিকেট ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠানোর দায়িত্ব নেয়। কক্সবাজারের জনৈক নুরুল হক কোম্পানীর ট্রলারটি পাচারকারী সিণ্ডিকেট কিনে এনে ট্রলার শনিবার রাতে ১৩৫ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। গভীর বঙ্গোপসাগরে রবিবার ভোরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারনে ডুবে যায়। একদিন সাগরে ভাসমান থাকার পর জীবিত ফিরে আসা যাত্রী টেকনাফ সাবরাং ডেইল পাড়ার হোসেন আহমদের পুত্র আবু বক্কর এসব তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, সাগরে ভাসমান একটি ট্রলারের সহযোগিতায় ভেসে আসা ৫ যাত্রী প্রানে বেচে গেলেও অন্য ১৩০ জন যাত্রীর ভাগ্যে কি পরিণতি ঘটেছে তা বলা যাচেছ না । কোরবানি ঈদের কারনে সাগরে কোন ফিশিং ট্রলার তেমনটি ছিলনা। তাই আশে পাশে ট্রলার ছিল না। এদিকে আবু বক্করকে উদ্ধার দেখিয়ে বিজিবি টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন ৪২ ব্যাটলিয়ন অধিনায়ক লে,কর্ণেল জাহিদ হাসান। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ বিজিজির দেওয়া এজাহার মামলা হিসেবে রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন। সেন্টমার্টিনের দায়িত্বরত নৌ-বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, দ্বীপের আশেপাশে লাশের কোনসংবাদ তাদের কাছে নেই। সাগর থেকে বুধবার রাতে ফিরে আসা ট্রলার মাঝি ফজর রহমান ও মোঃ হাসিম জানিয়েছেন, সাগরে তারা অসংখ্য ভাসমান লাশ ও ডুবে যাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। কয়েকজনকে চিনিছেনও কিন্তু প্রশাসনিক ঝামেলার ভয়ে তারা এদের কূলে আনতে সাহস করেননি। সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় নিখোঁজ পরিবার গুলোর মধ্যে একদিকে আতংক এবং অপর দিকে চলছে মাতম।

অপর দিকে টেকনাফের বদরমোকাম পয়েন্ট হতে সাত মালয়েশিয়াগামী মিয়ানমার নাগরিকসহ ট্রলার জব্দের ঘটনায় ২২ জনকে আসামী করে মামলা করেছে বিজিবি। সোমবার রাতে শাহপরীরদ্বীপ বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার মোঃ জাকারিয়ার নেতৃতে এদেরকে আটক করা হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper