স্যান্ডির তাণ্ডবে মৃত্যু ৪৬, উদ্ধারকাজ শুরু

ny

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির তাণ্ডবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ২৩ জন, নিউ জার্সিতে ছয়জন ও অন্যান্য রাজ্যে সাতজন মারা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডি ক্রমে দুর্বল হয়ে কানাডার উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ দুই দিন বন্ধ থাকার পর আজ বুধবার আবার খুলতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮৮৮ সালে দুই দিনের জন্য এটি বন্ধ ছিল।
সাবওয়ে কখন চালু হবে তার কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। তবে আজ থেকে বাস চলাচল শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। অধিকাংশ শহরের বিদ্যুত্ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে দুই থেকে তিন দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্লুমবার্গ।
বিদ্যুত্ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট লোকজন। এদিকে ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। নির্বাচনী প্রচারণার একেবারে শেষ মুহূর্তে আঘাত হানা এই ঝড়ের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে বারাক ওবামা ও মিট রমনির চূড়ান্ত প্রচারণা। প্রেসিডেন্ট ওবামা তৃতীয় দিনের মতো তাঁর প্রচারণা স্থগিত রেখেছেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার রমনি সীমিত আকারে তাঁর প্রচারণা শুরু করেছেন।
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এবং নিউ জার্সির নিউইয়র্ক বিমানবন্দর আজ সীমিত আকারে চালু হবে।
স্থানীয় সময় সোমবার রাত আটটার দিকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ছয়টা) ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে। উপকূলে পৌঁছানোর সময় রেকর্ড পরিমাণ ১৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় নিউইয়র্ক শহরের নিচু এলাকা। ক্যাসিনোর জন্য বিখ্যাত আটলান্টিক সিটি চলে যায় প্রায় আট ফুট পানির নিচে।
ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডির প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় তলিয়ে গেছে উপকূলের অনেক এলাকা। তলিয়ে গেছে পাতালরেল ও সুড়ঙ্গপথ। ঘূর্ণিঝড়কবলিত ১৩টি রাজ্যে ৮২ লাখ বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারে ডুবে যায় এক কোটির বেশি মানুষ।
এসব এলাকার পৌনে চার লাখ অধিবাসীকে ২৪ ঘণ্টা আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিউইয়র্ককে ‘মহা দুর্যোগপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে নিউ জার্সি উপকূল অতিক্রম করছিল স্যান্ডি। ওই সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৯ কিলোমিটার।
হারিকেন স্যান্ডির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নিরূপণ করা যাচ্ছে না। তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন, ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যয় এক থেকে দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাকে অন্যতম করালগ্রাসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব উপকূলের শহরগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নিউইয়র্ক শহর অচল হয়ে পড়েছে। ঝড় আঘাত হানার পরপরই জলোচ্ছ্বাসের কথা শোনা গেছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। বাতিল করা হয়েছে ১৮ হাজারের মতো ফ্লাইট। বাস ও পাতালরেলের চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও স্টক এক্সচেঞ্জও বন্ধ রয়েছে। ৭৬টি স্কুলে খোলা হয়েছে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ জানান, জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা পূর্বাভাসে জানানো উচ্চতার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পানির উচ্চতা বিপত্সীমার ওপর থাকায় নিউ জার্সির ওয়েস্টার ক্রিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper