আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় সংস্কারপন্থীরা

bd parliament

ওয়ান-ইলেভেনের পর সংস্কারের দায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলহারা নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক বা একাধিক আসনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলে ফিরে তারা ফের মনোনয়নলাভের জন্য এখন থেকে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোনো কারণে দল তাদের মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এমনকি অনেক নেতা প্রস্তুতি নিচ্ছেন একাধিক আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিতে। এর মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত বাড়ানো ছাড়াও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন শুরু করছেন তারা। শুধু সংস্কারপন্থি নন, বিভিন্ন কারণে দলবিচ্ছিন্ন অন্য নেতারাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছেন।

জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেন ঝড়ে বাদ পড়াসহ আওয়ামী লীগের সেই মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা আবার মাঠে সক্রিয়। এরা দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রবীণ, কেউ বা নবীন। কেউ আগে মন্ত্রী-এমপি ছিলেন, কেউ বা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এদের সবার লক্ষ্য অভিন্ন, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে। এরই মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে নিজেদের নতুনভাবে তৈরি করছেন। মাঠ পক্ষে রাখতে বিভিন্নমুখী আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন কেউ কেউ। তাদের অনেকেই বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, নির্বাচন আসছে, আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যোগ না দিলেও তারা নিজ নিজ এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও যোগ দিতে দেখা গেছে এসব নেতাকে।

আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। এ আসন ছাড় দিতে হয়েছে। এবার আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বরিশাল-১ এ আমিই প্রথম বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছি। আগামী নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। দেখা যাক কী হয়। তবে আমি নির্বাচনের প্রস্তুত নিচ্ছি।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজির হোসেন বলেন, নির্বাচন করতেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চনার ঘা শুকানোর আগেই ডাকসুর সাবেক তিনজন ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, আখতারুজ্জামান ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের মতো তারকাখ্যাত নেতার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ কেড়ে নেওয়া হয়। আখতারুজ্জামান গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক হয়েছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। বাকিরা কোনো কিছুতে নেই। জানা গেছে, ডাকসু তারকা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ মৌলভীবাজারের দুটি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। মূল আসন কুলাউড়া ছাড়াও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ থেকে নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে তার। ডাকসুর অপর তারকা মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া এবং ঢাকার দুটি আসন নিয়ে ভাবছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন আদালতে আটকে যাওয়ায় থেমে যান মান্না। এখন আগামী সংসদ নির্বাচনে বগুড়া থেকে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একইভাবে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের মনোনয়ন কেড়ে নিয়ে তার আসনে প্রার্থী করা হয় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে, কিন্তু জোয়ারের মুখেও তিনি হেরে যান বিএনপি নেতা মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের কাছে। এবার তিনিও নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাফফর হোসেন পল্টু ঢাকার সবুজবাগ থেকে মনোনয়ন পেলেও শেষ মুহূর্তে তা হাতছাড়া হয়ে যায়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মুজাফফর হোসেন পল্টু ঢাকার মতিঝিল ও সবুজবাগ দুটি আসনেই এবার মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ পাবনা-১ আসনে ব্যাপকভাবে তৎপর। তিনি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ান চাইবেন। না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। এ ছাড়াও অধ্যাপিকা নাজমা রহমান, হাবিবুর রহমান খান বরিশাল-২, অধ্যাপক আবদুল মান্নান মেহেরপুর-২ থেকে মনোনয়ন চাইবেন আবারও। দল ফের বঞ্চিত করলে নতুন ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ছাড়াও সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের হতাশ-বঞ্চিত ৮৭ জন নেতা মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচন করতে পারেন। অনেক উপজেলা চেয়ারম্যান দলীয় এমপিদের ওপর ক্ষোভে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট একাধিক মহলের মতে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের। অন্য কারও নয়। দ্বিতীয় লড়াইটি হবে বিএনপির সঙ্গে। আওয়ামী লীগের মতো একই পরিস্থিতি এখন বিএনপিতেও। বিএনপির সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত নেতারা এখন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগ শুরু করেছেন। সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছাড়াও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব নেতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দল তাদের মনোনয়ন না দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে লড়বেন তারা। এদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান চট্টগ্রাম-১, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম, দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, সাবেক হুইপ আশরাফ হোসেন খুলনা-৩, সাবেক মন্ত্রী আলমগীর কবীর নওগাঁ-৬, শাহ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন বরিশাল-৪, সাবেক হুইপ, পিরোজপুর জেলার সভাপতি সৈয়দ শহীদুল হক জামাল পিরোজপুর ও বরিশালের দুটি আসন, সাবেক হুইপ রেজাউল বারী ডিনা বগুড়ায়, দলের সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি যশোরে, সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল, সাবেক এমপি, সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি নজির হোসেন সুনামগঞ্জ, সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল নরসিংদী, চাঁদপুর জেলা সভাপতি এস এ সুলতান টিটু চাঁদপুর, আলমগীর হায়দার খান চাঁদপুর, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান পিরোজপুর, সাবেক এমপি, বরগুনা জেলা সভাপতি নূরুল ইসলাম মণি বরগুনা, সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিঙ্কন গাইবান্ধা, বগুড়ার সাবেক দুই এমপি ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বগুড়া, জি এম সিরাজ বগুড়া, সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গু বরিশাল, বরগুনা জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টো বরগুনা এবং পিরোজপুরের সাবেক এমপি ডা. রুস্তম আলী ফরাজী নিজ এলাকা থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper