‘এপ্রিল-মে মাসে’ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু

padma b

আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আগামী অক্টোবরে পদ্মা সেতুর জন্য দরপত্র আহ্বান করে এপ্রিল-মে মাসে ব্রিজের ফাউন্ডেশন করব আমরা।”

বিশ্ব ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুতে ফেরার ঘোষণা দেয়ার পর এই প্রথম সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললেন মুহিত।

তিনি বলেন, “আমি যেভাবে হিসাব করেছি ফর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন, বিশ্ব ব্যাংক ইতোমধ্যে এগ্রি করেছে। আরও কিছু টেন্ডার ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে। সেগুলো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।”

“উই শুড গো ফর টেন্ডার”, যোগ করেন মন্ত্রী।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চারটি শর্ত দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক। তা পূরণ হয়নি জানিয়ে গত ২৯ জুন ১২০ কোটি ডলারে ঋণচুক্তি বাতিল করে সংস্থাটি।

এরপর সরকার পদ্মা প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংককে ফেরাতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করে সরকার। সমালোচনার মুখে থাকা মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, ছুটিতে যান সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন, প্রকল্প থেকে সরানো হয় ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর মসিউরকে।

সব শর্ত পূরণের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয় বিশ্ব ব্যংক।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ইকবাল মাহমুদ রোববার সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ব ব্যাংক যে শর্ত দিয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে বলেই তারা ফিরে এসেছে।

বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে কি না- জানতে চাইলে সচিব বলেন, বহুজাতিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল অচিরেই ঢাকায় আসছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

এদিকে পদ্মা প্রকল্পে ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক নতুন কোনো শর্ত দেয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের ফেরার ক্ষেত্রে আগের চার শর্তের সঙ্গে নতুন কয়েকটি যোগ হয়েছে বলে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের মধ্যে রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ইকবাল মাহমুদ এই তথ্য জানিয়েছেন।

বহু জল ঘোলা হওয়ার পর পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ফেরার ঘোষণা আসার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক নতুন কোনো শর্ত দেয়নি।”

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চারটি শর্ত দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংক। তা পূরণ হয়নি জানিয়ে গত ২৯ জুন ১২০ কোটি ডলারে ঋণচুক্তি বাতিল করে সংস্থাটি।

এরপর সরকার পদ্মা প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংককে ফেরাতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করে সরকার। সমালোচনার মুখে থাকা মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, ছুটিতে যান সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন, প্রকল্প থেকে সরানো হয় ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর মসিউরকে।

সব শর্ত পূরণের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয় বিশ্ব ব্যংক।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানোর কারণেই বিশ্ব ব্যাংক ফিরে এসেছে কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক যে শর্ত দিয়েছিল, তা পূরণ হয়েছে বলেই তারা ফিরে এসেছে।”

আগের চুক্তি বাতিল হওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে কি না- জানতে চাইলে সচিব ইকবাল মাহমুদ স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি।

“বহুজাতিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল অচিরেই ঢাকায় আসছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে,” বলেন তিনি।

সচিব বলেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্প একটি চলমান প্রকল্প। এর কাজ চলছে। জাইকা ইতোমধ্যে তাদের ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে। এডিবি এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি। বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও জাইকার যে টিম আসবে তারাই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করবে।”

বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও জাইকার প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটন, ম্যানিলা ও টোকিও থেকে আগামী সপ্তাহেই ঢাকায় আসবে বলে জানান তিনি।

ইকবাল মাহমুদ আরো বলেন, তার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে।

“তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব কৌশল নির্ধারণ করবেন,” বলেন তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে সচিব বলেন, “আমরা (সরকার) কত দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করব, সেটাই এখন বড় বিষয়।”

“সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সহ-অর্থায়নকারীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে,” যোগ করেন তিনি।

বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বাতিলের পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এ জন্য তহবিল সংগ্রহে ব্যাংক হিসাবও খোলা হয়।

ওই অনুদানের অর্থের কী হবে- জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্য তিন দাতা সংস্থা যে অর্থায়ন করবে, তার বাইরেও অর্থের প্রয়োজন হবে। অনুদানের অর্থ সেখানে ব্যয় করা হতে পারে।”

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ফিরে আসার ক্ষেত্রে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য ও চীন সরকারের গঠনমূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরে দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper