উত্তরে রহমতউল্লাহ দক্ষিণে কামরুল সভাপতি হচ্ছেন?

1

কমিটির জন্য অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। দীর্ঘ এক যুগ পর নতুন কমিটির ঘোষণা আসছে যেকোনো দিন। অবিভক্ত নগরকে প্রথমবারের মতো দুই ভাগ করে কমিটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তরে কে এম রহমতউল্লাহ সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদক আর দক্ষিণে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সভাপতি ও সাঈদ খোকন সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত কমিটির তালিকা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে। তিনি যেকোনো দিন কমিটি ঘোষণা করবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন কমিটি দুটিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবীণ কয়েকজন নেতা বাদ পড়েছেন। তুলনামূলক নবীনরাই দুই কমিটির বেশির ভাগ পদ পাচ্ছেন। তার পরও নবীন-প্রবীণের কিছুটা সমন্বয় থাকছেই। মহানগর কমিটির বর্তমান সহসভাপতি ও জাতীয় সংসদের তথ্যবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি কে এম রহমতউল্লাহ এর আগে নগরের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ মারা যাওয়ার পর কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। আর খাদ্যমন্ত্রী ও নগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম আলোচিত এক-এগারোর সময়ে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আন্দোলন মোকাবিলায় ও নগরের ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনকে চাঙ্গা করতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তরুণ নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মহানগর উত্তরে সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খান। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা সাদেক খান এক দশকের বেশি সময় সফলতার সঙ্গে বৃহত্তর মোহাম্মদপুর থানার নেতা-কর্মীদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে মহানগর দক্ষিণে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন অবিভক্ত নগরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খোকন। তাঁর পিতা ঢাকার জনপ্রিয় মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফের এখনো ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে নগরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। পিতার অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় সাঈদ খোকনও। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও হানিফ পরিবারের প্রতি সুনজর রয়েছে। সব মিলিয়ে নগরের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান গড়েছেন সাঈদ খোকন।
এদিকে নগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজি মোহাম্মদ সেলিম এখনো দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হতে জোরালো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে চূড়ান্ত ঘোষণার আগে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পদে সাঈদ খোকনের জায়গায় হাজি সেলিমেরও স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে আসতেন। তিনি দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এর মধ্য দিয়ে পুরনো ঢাকায় নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন হাজি সেলিম।
এদিকে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানামুখী দ্বন্দ্ব। নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম- এ তিন নেতাকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশীদের পৃথক বলয় গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, পদপ্রত্যাশী এসব নেতার সমর্থকরা যে যার পছন্দের পদ পেতে নানাভাবে চেষ্টা-তদবির করছেন। পদের প্রশ্নে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। এ ছাড়া ঢাকার আদি বাসিন্দাদের সঙ্গে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। এম এ আজিজকে সামনে রেখে কমিটিতে স্থান পেতে চাইছেন ঢাকার আদি বাসিন্দাদের অনেকে। আবার বাইরের জেলা থেকে আসা অনেক নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সামনে রেখে কমিটিতে পদ পেতে চাইছেন।
প্রায় দুই বছর আগে নগরের সম্মেলন হলেও নানামুখী কারণে বারবার নতুন কমিটি ঘোষণা পিছিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন নেতা-কর্মীরা। এক যুগের বেশি সময় সংগঠক হিসেবে কাজ করেও দেওয়ার মতো দলীয় পরিচয় নেই অনেক নেতার। ফলে তাঁরা অনেকে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এমন অবস্থায় বিএনপি-জামায়াত জোট রাজপথে আন্দোলনে নামলে তা মোকাবিলা করা কষ্টকর হবে বলে মনে করেন অনেক নেতা। এ জন্য দ্রুত কমিটি ঘোষণা চান দলীয় নেতৃত্ব।
৫৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবিলম্বে কমিটি দেওয়া হলে নগরের কাজে গতি বাড়বে। কমিটি ঘোষণা হলে পদবঞ্চিতরা দুই-এক দিন হয়তো মন খারাপ করে থাকবেন কিন্তু পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর কমিটি না হলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ বাড়তেই থাকবে।’ ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটি ঝুলে থাকায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। কেউ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাইছে না। দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়া হলে বিরোধীদের আন্দোলন মোকাবিলা আমাদের জন্য সহজ হবে।’
মহানগর কমিটি ঘোষণার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন দুটি কমিটি দলীয় সভাপতির হাতে রয়েছে। শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিভক্ত নগরীতে আবার কাউন্সিল করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper