যুদ্ধে যাচ্ছেন তরুণ ব্রিটিশ মুসলমানরা, তাদের দ্বারাই ব্রিটেন হামলার আশঙ্কা!

Abu Muthanna al-Yemeni

ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে কমপক্ষে দেড় হাজার ব্রিটিশ মুসলিমকে রিক্রুট করা হয়েছে যারা ফিরে এসে ব্রিটেনে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেবার পার্টির এমপি খালিদ মাহমুদ। বিগত দুই বছরে তরুণ মৌলবাদের সংখ্যা ব্রিটেনে উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে ফরেন সেক্রেটারি উইলিয়াম হাগ দাবি করেন, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে এমন তরুণের সংখ্যা ৪০০ জনের মতো যারা মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য।
এ ছাড়া ব্রিটেনের অ্যান্টি-টেরর চিফ স্যার পিটার ফাহির মতে, যুদ্ধে গিয়েছেন ৫০০ জন ব্রিটিশ মুসলিম। খালিদ মাহমুদের উল্লেখকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি যা সবাইকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
এই আগুনে ঢি ঢেলে দিয়েছেন ব্রিটেনের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্ট সার্ভিস এমআই৬ এর কাউন্টার টেরোরিজমের সাবেক প্রধান রিচার্ড বেরেট। তিনি জানান, যুদ্ধ শেষে ইতিমধ্যে ৩০০ যোদ্ধা ফেরত এসেছেন।
স্কাই নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বার্মিংহামের পেরি বার এমপি খালিদ আরো বলেন, যুদ্ধে যে সব ব্রিটিশ মুসলিম গিছেয়েন তাদের সর্বনিম্ন সংখ্যা দেড় হাজার বলে ধারণা করছি আমি। গোটা দেশে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, আরো বহু মানুষ চলে গিয়েছেন। এখানে ব্রিটিশ-সিরিয়ানরা রয়েছেন যারা যুদ্ধে যেতে ইচ্ছুক। এ ছাড়া রয়েছেন কুর্দিশ কমিউনিটি। দুই বছর আগে বহু তরুণ মুসলিম গিয়েছেন যুদ্ধে। সবমিলিয়ে যোগ দিলে এ সংখ্যা কতো হবে তা ধারণাও বাইরে। এখন  আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে তাদের ফিরে আসার বিষয়ে।
এমপি মাহমুদের এই সতর্ক বাণী পৌঁছেছে ব্রিটিশ সিকিউরিটি এক্সপার্টদের কাছে। তারাও মত দিয়েছেন যে, ইরাক ও সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধে ভুগতে হবে ব্রিটেনকে।
এদিকে, মেট্রোপলিটান পুলিশ অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার এবং অপারেশনের প্রধান স্পেশালিস্ট ক্রেসিডা ডিক বলেন, যুদ্ধ থেকে ফেরত আসা এসব ব্রিটিশ মুসলিমদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিল সমস্যায় পড়বে দেশটি।
সাবেক ডিফেন্স সেক্রেটারি লিয়াম ফক্স জানান, এসব যুদ্ধে যাওয়া ব্রিটিশ মুসলিমদের বিষয়টি এ সময়ের ‘সত্যিকার সমস্যা’ হয়ে দেখা দেবে।
ওয়েলসের আরেক মুসলিম নেতা জানান, সম্প্রতি যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে কার্ডিফের দুজন তরুণের অনলাইনে ছাড়া ভিডিওর ব্যাপক প্রচারে যুদ্ধগামীদের দলে আরো তরুণ যোগ হয়েছেন। সেখানে দেখা যায়, ইরাকের একটি অঞ্চলে এবং দ্য লিভান্ট (আইএসআইএস)-তে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ বছর বয়সী দুই তরুণ নাসার মুথানা এবং রিয়াদ খান। নাসারের ছোট ভাই সতেরো বছরের আসেল সিরিয়ায় যেতে প্রস্তুত।
দক্ষিণ ওয়েলসের ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শেখ জানে আবদো বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ ভিডিও প্রচারের সুযোগ দেওয়াটা উচিত হয়নি।
স্কাই নিউজকে রিয়াদ খানের মা অশ্রুসজল চোখে জানান, তার ছেলে কোথায় রয়েছে তিনি জানেন না। এসব তরুণদের ব্রেইনওয়াশ করে যুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এই ভিডিও প্রচারের পর একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নাসারের বাবা আহমেদ মুথানা।
৫৭ বছর বয়সী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ মুথানা গার্ডিয়ানকে বলেন, এই ভিডিওটি দেখার পর আমার গোটা দেহ-মনে যেনো একটি বোমা ফাটলো। আমি হতভম্ব, আমি শঙ্কতি। আমি কেঁদেছি। এই দেশে আমি মাত্র ১৩ বছর বয়সে এসেছি। আমার ছেলেদের জন্ম বাড়ির কাছের এক হাসপাতালে হয়েছে। তারা এই দেশের মাটি-পানিতে বড় হয়েছে। তারা নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অ্যান্টি-এক্সট্রিমিস্ট থিঙ্কট্যাঙ্ক কোয়ালিয়াম ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র হারাস রফিক বলেন, ব্রিটেনের তরুণ মুসলমানদের মধ্যে মৌলবাদিদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এ জন্য সরকার যে পথে এগোচ্ছে তাতে মূলত কাজ হচ্ছে না। এসব তরুণদের পরিচয় বের করা হচ্ছে শাস্তি দেওয়ার জন্য। অথচ আমাদের আগে প্রয়োজন তাদের মৌলবাদের বীজ প্রথিত হওয়া থেকে বাঁচানো। সূত্র : ইনডিপেন্ডেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper