পদ্মা সেতুর দরপত্র: কাজ করে না ভেবে আগে ভাবুন

1

সিনো হাইড্রো করপোরেশন নামে যে চীনা প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ করতে গিয়ে সরকারকে বেশ নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানই পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজ পেতে যাচ্ছে৷ এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত না হলেও গত বৃহস্পতিবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তারাই সর্বনিম্ন আট হাজার ৭০০ কোটি টাকা দর হেঁকেছে৷ অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান কোরিয়ার হুন্দাই কনস্ট্রাকশন ও বেলজিয়ামের জান্ডিনাল যথাক্রমে দর হেঁকেছে ১২ হাজার ১২১ কোটি ও ১৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা৷ ব্যতিক্রম কিছু না হলে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সিনো হাইড্রোরই কাজটি পাওয়ার কথা৷ এর আগে দরপত্রের মাধ্যমে অপর চীনা প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে মূল সেতু নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়৷
যেকোনো কোম্পানিকে দ্বিতীয়বার কোনো কার্যাদেশ দেওয়া হয় আগের কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে৷ অথচ চীনা প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও সিনো হাইড্রো করপোরেশনের পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়৷ এর মধ্যে সিনো হাইড্রো করপোরেশন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ করছে৷ ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়নের কাজ ২০১৩ সালে শেষ করার কথা থাকলেও মে মাস পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৮০ ভাগ৷ একই প্রকল্পের বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ৭৩ দশমিক ৩৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে৷ চীনা প্রতিষ্ঠানটি কেবল সময়ক্ষেপণই করেনি, তারা সওজের কাছে বাড়তি ৫১১ কোটি টাকা দাবি করে চার মাস কাজ বন্ধ রেখেছিল৷ এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানকে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজ দেওয়া হলে পরে না পস্তাতে হয়৷ তাই কাজ দিয়ে না ভেবে দেওয়ার আগের ভাবনাটা জরুরি বলে মনে করি৷ অার যে প্রতিষ্ঠানকে পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণকাজ করার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেই মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিও সময়মতো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ করতে পারেনি৷
দেশের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের কাজে যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন ছিল, শুরু থেকেই তার প্রচণ্ড অভাব লক্ষ করা গেছে; যে কারণে বিশ্বব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠী প্রতিশ্রুত অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে৷ কেন ও কাদের জন্য দাতারা অর্থ ফিরিয়ে নিল, সেই প্রশ্নের সদুত্তর অাজও মেলেনি৷ এখন ‘নিজস্ব অর্থায়নে’ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ করতে গিয়ে দেশবাসীকে যেমন বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, তেমনি যেসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে, তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৮ সাল নাগাদ পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলবে৷ আমাদের প্রশ্ন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যে সেতু ২০১৪ সালে চালু হওয়ার কথা, তার কাজ চার বছর পিছিয়ে গেল কেন? ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের অপকর্ম বা অপকর্মের ষড়যন্ত্রের কাফফারা দেশের সাধারণ করদাতারা কেন দেবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper