বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে এফ.সি.ও.’র রিপোর্ট

1

সেনা সমর্থিত দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই গণতান্ত্রিক সরকারের ৫ বছরে বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু ৫ বছরের এই গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামল শেষ হতে না হতেই দেশটিতে দেখা দেয় সহিংসতার রাজনীতি।

রাজনৈতিক দলগুলো দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫ জানুয়ারির ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতায় দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে দেশের অর্থনীতি। বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৫০০ জন নিহত ও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয় ।

এরমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ২১৫ জন। হামলা ও ভাংচুরের শিকার হয় দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরাও।

বিশেষ করে বিরোধী দলের ডাকা টানা হরতাল ও অবরোধের ফলে সবচেয়ে বেশি ভূক্তভোগি সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। ক্ষতি হয় গণ পরিবহন ও বিপুল পরিমাণ সম্পদের।

বিরোধী দলের সভা সমাবেশের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং নেতাকর্মীদেরকে গণহারে গ্রেফতার করা হলে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে। বাড়তে থাকে গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিভিন্ন মহল থেকে এসব সহিংসতা ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়।

ফেব্রুয়ারিতে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী সাইদা ওয়ার্সির বাংলাদেশ সফর এবং ৩ মার্চ ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনারের বিবৃতি এবং বাংলাদেশে আšত্মর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা নিয়ে ১৪ই মার্চে ওয়ার্সির বিবৃতিতেও দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিবৃতিতেও দেশের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে সরকার ও বিরোধী দলকে সমঝোতায় আসার আহবান জানানো হয়। একইসাথে কেউ কোন হত্যাকান্ড বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তদšত্ম করে তাকে বিচারের আওতায় আনার আহবান জানানো হয়। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত্যাকান্ডের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

একটা দেশের গণতন্ত্র কার্যকর থাকার প্রধান শর্ত হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু বাংলাদেশে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বয়কটের মধ্যদিয়ে গত ৫ জানুয়ারি যে একতরফা দশম জাতিয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তা গণতন্ত্রের জন্য মোটেও সুখকর নয়। তাই বাংলাদেশের দির্ঘমেয়াদি স্থিতিশিলতা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে শক্তিশালী গণতন্ত্র জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper