র‌্যাব ডিবি পুলিশ কাউকে রাতে ধরতে এলে চিৎকার করে মহল্লাবাসী জড়ো করে ঘেরাও করুন: মুন্সীগঞ্জে খালেদা

1

আওয়ামী লীগকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, আগেরবার ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছিল। এবার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে ৪২ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি বলেন, কারণ আওয়ামী লীগের স্বভাব হচ্ছে খাই খাই আর চাই চাই। এ সরকারকে বিদায় করা ছাড়া বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, পাঁচ মাস সময় দিয়েছি, আর সময় দেয়া হবে না। র‌্যাব এখন মূর্তিমান আতঙ্ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ র‌্যাব এখন গ্যাংরিন-ক্যান্সার হয়ে গেছে র‌্যাব সেনাবাহিনীরও সুনাম নষ্ট করেছে। তাই এই র‌্যাব বাতিল করে অন্যকিছু করতে হবে। যাদের জবাবদিহিতা থাকবে।
বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষীগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। বিএনপিকে ভয় পায়। কুকুরে কামড়ালে যেমন জলাতঙ্ক হয়, পানি দেখলে ভয় পায়, তেমনি আওয়ামী লীগের অবস্থা হচ্ছে জলাতঙ্ক রোগ। তারা মানুষ দেখলেই ভয় পায়। এজন্যই বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। বলা হচ্ছে আমাকে নাকি ঢাকায় সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। দেখা যাক কিভাবে তারা আমার সমাবেশ বন্ধ করে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বভাবই হচ্ছে খাই খাই আর চাই চাই। তারা সব চোরদের এমপি বানিয়ে রেখেছে। আগেরবার কালো বিড়াল রেল খেয়েছে, এবার জাহাজ খাবে। তাই আওয়ামী লীগ বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। এ সরকারকে বিদায় করতে মা-বোন, আলেম-ওলামা, যুব সমাজকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। আমরা আর চোখের পানি দেখতে চাই না। যারা গুম, খুন, হত্যাকা- ঘটাচ্ছে তাদের একদিন চোখের পানি ফেলতে হবে। এখন তাদের পাশে যেসব চ্যালা-চামুন্ড্যা আছে তারাও থাকবে না। তবে আমরা তাদের পাশে থাকব। কারণ আমরা তাদের মতো বেঈমান নই।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। র‌্যাব এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাকেও জবাবদিহি করতে হবে। রাতের বেলায় কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, র‌্যাব-ডিবি-পুলিশ রাতে কারও বাড়িতে গেলে চিৎকার করে মহল্লাবাসীকে জড়ো করে তাদের ঘেরাও করতে হবে। কাউকে ধরতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের কাছে লিখিত দিয়ে কোথায় নেয়া হচ্ছে তা জানাতে হবে। আওয়ামী লীগ দেশকে অকার্যকর করতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, নিজের দলের লোকেরা অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে কোন অভিযোগ না থাকলেও তাদের ধরে নিয়ে অত্যাচার-নির্যাতন করে মামলা দেয়া হয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, আমরা র‌্যাব গঠন করেছিলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনের জন্য। র‌্যাব গঠনের উদ্দেশ্য তখন সঠিক ছিল। এখন র‌্যাব, খুন গুম ও টাকা লেনদেনে জড়িত হওয়ায় পচে গেছে। র‌্যাব এখন গ্যাংরিন-ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। তাই এই র‌্যাবকে বাতিল করতেই হবে। তিনি বলেন, সুশীল সমাজসহ কেউ কেউ না বুঝেই র‌্যাব সংস্কারের কথা বলেছেন। কিন্তু সংস্কার করে কোন কাজ হবে না। তিনি বলেন, র‌্যাব দিয়েই শীর্ষ জঙ্গী মির্জা আজমের দুলাভাই আবদুর রহমান ও বাংলাভাইকে আমরা জীবিত ধরেছি, গুলি করে হত্যা করিনি। আর আওয়ামী লীগ সকলকে গুলি করে হত্যা করে তথ্য গুম করে। যাতে তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য উদ্ধার করা না যায়। তিনি বলেন, র‌্যাবের অপকর্মের সঙ্গে শুধু র‌্যাব-১১-এর তারেক সাঈদই জড়িত নয়, র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তা জিয়াসহ অনেকেই জড়িত।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখন চলছে শুধু সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি। ফ্রিস্টাইলে চলছে সবকিছু। যার যা খুশি তাই করছে। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ ও অত্যাচারী সরকার আজ ক্ষমতায়। তারা একের পর এক মানুষ খুন, গুম ও হত্যা করছে। এলাকার জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াছ আলীকে গুম করেছে। গুম আর খুন করাই হলো আওয়ামী লীগের নীতি। এভাবেই আওয়ামী লীগ জোর-জবর দস্তি করে ক্ষমতায় টিকে আছে। স্বাধীনতার পর তারা রক্ষীবাহিনীর মতো একই কায়দায় এখন র‌্যাব দিয়ে মুন্সীগঞ্জসহ সারাদেশে গুম, খুন করাচ্ছে। এই র‌্যাব টাকা নিয়েও গুম করা লোকদের ছেড়ে না দিয়ে খুন করছে। নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব সাতজনকে গুম করেছে। যারা গুম করতে দেখেছে তাদের ধরে নিয়ে গুম করা হয়েছে। এভাবে নারায়ণগঞ্জে ১১ জনকে গুম করার পর হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশের বিএনপির ৩১০ জনকে হত্যা ও ৬৫ জনকে গুম করেছে এ সরকার। তিনি বলেন, এই র‌্যাবকে শুধু ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর আইন অনুযায়ী কোর্ট মার্শাল করতে দেয়া হয়নি। এসব লোককে কোন বেনিফিট দেয়া যাবে না। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। ক্ষমতার পালাবদল হলে এ র‌্যাবকে শাস্তি দেয়া হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, এদেশে এখন কেউ নিরাপদ না। আমিও বলতে পারি না যে নিরাপদে আছি। এই আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে কেউ নিরাপদ থাকবে না। আমরা নিরাপদ, শান্তি ও উন্নয়নের বাংলাদেশ চাই। তিনি বলেন, আজ প্রতিনিয়ত চলছে মিথ্যাচার আর অত্যাচার। এভাবে দেশ চলতে পারে না। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা মুখে বললেও তারা কাজেকর্মে তা বিশ্বাস করে না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই মুসলমানসহ প্রতিটি ধর্মের মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরস্ত্র শান্তিপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো হয়েছে। সময় এলে এরও বিচার হবে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে না থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে থাকলে ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ হবে না। তাই আমাদের সঙ্গে আসুন। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ব্যবস্থা করব। এ সরকার গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। রানা প্লাজার ঘটনার পর বিদেশীদের ধারণা পাল্টে গেছে। বিদেশ থেকে অনেক সাহায্য এসেছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক আমিনুল ইসলামকে গুম করার পর হত্যা করেছে র‌্যাব। এজন্য গার্মেন্টস শিল্প আজ ধ্বংসের পথে বসেছে। এ শিল্পকে বাঁচাতে হবে।
আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযোদ্ধাদের দল বললেও আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের শক্তি ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধার দল। আওয়ামী লীগ সীমান্ত পাড়ি দেয়া মুক্তিযোদ্ধা। সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজন শুধু খেয়েছে আর শুয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ না করে তিনি বলেছিলেন, ২৭ তারিখ হরতাল দিয়েছি, এখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। এই কথা বলে তিনি বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। আর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার কথা বলে যুদ্ধে নেমেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper