এবি সিদ্দিক অপহরণকাণ্ড এখনো ধোঁয়াশা

1
পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিককে কারা ধরে নিয়েছিল, তার কোনো কূল-কিনারা দেড় মাসেও করতে পারেনি ‍পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক গত ১৬ এপ্রিল অপহৃত হলে তা ছিল ব্যাপক আলোচিত ঘটনা। এর দুই সপ্তাহের  মধ্যে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হলে অনেকটাই আড়ালে এখন ওই ঘটনা।

স্বামী অপহরণের পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় রিজওয়ানার করা ওই মামলা তদন্ত করতে বিশেষ একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যেই দুদিন পর উদ্ধার হন এবি সিদ্দিক।

সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইলে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা  থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত শফি বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সন্দেহভাজন কারো নাম পর্যন্ত বলতে পারছে না বাদি পক্ষ।

“কোনো ক্লু নেই। যে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে গাড়ির নাম্বার প্লেট ছিল ভুয়া। এই পর্যন্ত বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারপরও নিরাশ হওয়াও কিছু নেই।”

কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে তুলে নিয়ে হত্যার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল হয়। ফলে বদল হয় এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও।

প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম। তার পদে গত ১১ মে যোগ দেয়ার পর এনায়েত শফি ঢাকায় এসে বাদী রিজওয়ানা এবং অপহৃত এবি সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এদিকে দেড়মাসে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলেও পুলিশের ওপর আস্থা অটুট রয়েছে রিজওয়ানার।  এজন্য অপেক্ষা করতেও তৈরি এই আইনজীবী।

“এই ঘটনা তদন্তে পুলিশকে সময় দিতে হবে। ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অপরাধীদের খুঁজে পেতে সময় লেগেছে। তাছাড়া বিচারের জন্যও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে,” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন তিনি।

ঘটনার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন না এবি সিদ্দিক। রিজওয়ানা বলেন, “নারায়ণগঞ্জের এখন যে অবস্থা, তাতে সেখানে গিয়ে তার কাজ করাটা নিরাপদ মনে করছি না। এজন্য তাকে বাসাতেই থাকতে হচ্ছে।”

সন্তানদের নিয়ে কয়েকদিন আগেই দেশের বাইরে ঘুরে আসেন রিজওয়ানা-এবি সিদ্দিক। সোমবার তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফেরার পর মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হয় মামলার বাদী রিজওয়ানার সঙ্গে।

পুলিশকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ- র‌্যাব নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ছাড়াও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও নজর দিচ্ছে পুলিশ।”

গত ১৬ এপ্রিল বুধবার দুপুরে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে গাড়ি আটকে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবি সিদ্দিককে। একটি নীল রঙের গাড়িতে করে তাকে নেয়া হয়েছিল, যার নম্বর প্লেট ভুয়া বলে প্রমাণ পায় পুলিশ।

ম্যাগসেসে পুরস্কারজয়ী রিজওয়ানার স্বামী অপহরণের পরপরই দেশে-বিদেশে উদ্বেগের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসানের নেতৃত্বে র‌্যাব পুলিশ সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

মূলত তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করতেই এই বিশেষ কমিটি গঠন।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কমিটি সদস্য ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত বলার মতো কিছু হয়নি। তবে আমরা রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

অপহরণের প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর এবি সিদ্দিককে পাওয়ার পরের দিন নারায়ণগঞ্জের আদালতে নেয়া হয়েছিল, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। তবে তাতে সুনির্দিষ্ট কারো নাম বলেননি তিনি।

এবি সিদ্দিকের বক্তব্য অনুযায়ী,তাকে ধরে নেয়ার সময় পরিচয় জানত না অপহরণকারীরা। পরে পরিচয় জেনে নিজেদের সমস্যা হবে বুঝতে পেরে ছেড়ে দেয়।

এবি সিদ্দিককে যে এলাকা থেকে ধরে নেয়া হয়েছিল, ওই এলাকা থেকেই গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ করা হয়েছিল কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজনকে। তিনদিন পর তাদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়।

ওই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে র‌্যাবের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, তিনজন গ্রেপ্তার হয়ে এখন জিজ্ঞাসাবাদেরও মুখোমুখি। অভিযোগ এসেছে, অর্থ নিয়ে র‌্যাব এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper