তদন্তের মুখে টাওয়ার হ্যামলেটস

1
স্থানীয় নির্বাচনে দুটি আসনের ভোট গণনায় পাঁচ দিন বিলম্বের পর নির্বাচন কমিশনের তদন্তের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই বোরোয় মেয়র পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফর রহমান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই বোরো কাউন্সিল নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হয়। এখানে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নিয়ম লংঘন ও ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টির নেতারা।

সর্বশেষ ঘোষিত ফলে ব্রোমলি সাউথের দুটি আসনেই লেবার পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, যাতে এই বোরোয় নির্বাচিত কাউন্সিলরের হিসেবে তাদের পাল্লা ভারী হয়েছে।

এই কাউন্সিলে নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিটার গোল্ডস ‘পঁচা’ এই বোরোয় ভোট নিয়ে প্রথম অভিযোগ করেছেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘তৃতীয় বিশ্বের গ্রাম্য রাজনীতি’ মঞ্চস্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গোল্ডসের অভিযোগ, মেয়র লুৎফরের গড়ে তোলা টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট পার্টির সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রের মধ্যে প্রচারপত্র  বিলি করতে এবং ভোটারদের উদ্দেশ্যে জোরে জোরে কথা বলে নিজেদের পক্ষে ভোট চাইতে দেখেছেন।

একে ‘নির্বাচনী প্রচারের নোংরা কৌশল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০১০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হন লুৎফর রহমান, যার বিরুদ্ধে ‘উগ্রপন্থী’ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে।

লুৎফর প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময় থেকেই সেখানে নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে লুৎফরের দল থেকে ১৮ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্রোমলি ওয়ার্ডের দুই আসন পাওয়ায় লেবার পার্টির আসন সংখ্যা হয়েছে ২০টি।

কনজারভেটিভ নেতা গোল্ডস বলেন, সেখানে ইসলামপন্থীদের আক্রমণের শিকার হওয়াটা স্বাভাবিক।

“কিন্তু পুরো বোরোজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভীতি তৈরি করাটা ছিল ভয়াবহ। আমার ভোটকেন্দ্রের বাইরে চারজন বাংলাদেশি ছিলেন, যারা সবাই টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট পার্টির এবং ভিতরে ঢুকলে দেখা যায় আরো ১১ জন ঘোরাফেরা করছে। তারা লুৎফর রহমানকে ভোট দিতে বলছিলেন।”

যুক্তরাজ্যের রাজধানীর এই কাউন্সিলে ফার্স্ট পার্টির নেতাকর্মীরা ‘সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক’ রাজনীতির পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

লুৎফরের কাছে মেয়র পদে পরাজিত হওয়া লেবার পার্টির নেতা জন বিগস ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকাকে বলেন, ট্যাওয়ার হ্যামলেটসে নির্বাচনী প্রচারণা ছিল `অসম যুদ্ধক্ষেত্র’, যেখানে ‘ভোটারদের জোর করার’ সংস্কৃতির সঙ্গে লড়তে হয়েছে।

“সেখানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক নয়।”

ভোটকেন্দ্রে লুৎফর সমর্থকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কনজারভেটিভ নেতা গোল্ডসের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বলেছে, টাওয়ার হ্যামলেটসে নির্বাচনী নিয়ম লংঘনের অভিযোগের তদন্ত হবে।

“সবার স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার অধিকার রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper