বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর বরাদ্দ অন্যভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে!

1

পদ্মা সেতুতে বাংলাদেশের জন্যে বিশ্ব্যব্যাংকের বরাদ্দ ছিল ১.২ বিলিয়ন ডলার। এবারের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংকের বাৎসরিক মধ্যবর্তী সভার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের জন্যে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের জন্যে বিশ্বব্যাংক বরাদ্দ করল ২.৮ বিলিয়ন ডলার। এর ভেতর দিয়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর জন্যে বাংলাদেশকে যে বরাদ্দ দিয়েছিল সেটা অন্যভাবে দিল এবং আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল।
এ বিষয়ে বাৎসরিক মধ্যবর্তী সভা থেকে দেশে ফেরার পর অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটা তার প্রমাণ। পদ্মা সেতুর বিষয়টি এখন বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের ভেতর কোন বাধা হিসেবে নেই।
পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংকের বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ট বা বিশ্বব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে যেটা স্থির করা যায় তাহলো, বাস্তবে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে। যার ফলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বিষয়টি রিভিউ করেন। যদিও পরে সেটা নানান কারণে তদন্তের ভেতর আটকে আছে। তবে বিশ্বব্যাংক তার সেই অবস্থান থেকে স্পষ্ট সরে এসে বাংলাদেশের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখছে। যে কারণে এই মধ্যবর্তী সামিটের আগে বিশ্বব্যাংকের এশীয় প্যাসিফিক অঞ্চলের সহসভাপতি যে ২.৮ মিলিয়ন ডলারের কমিটমেন্ট করেছিলেন সেটা কোনরূপ প্রশ্ন ছাড়াই নিশ্চিত হয় বাৎসরিক এই মধ্যবর্তী সামিটে।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যবর্তী এই সামিট বাৎসরিক সামিটের মতো। এটা আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যৌথভাবে করে। এবার আইএমএফের সঙ্গেও অর্থমন্ত্রীর মিটিং ছিল। যা ছিল মূলত বাংলাদেশে আইএমএফের ঋণের কার্যক্রম পর্যালোচনা। এ বিষয়ে মিটিংয়ের ফল সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের মতে বাংলাদেশ সব থেকে ভাল করছে।
আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের এ মধ্যবর্তী সভা ছাড়াও অর্থমন্ত্রী ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও মেক্সিকোতে কয়েকটি সভা ও সেমিনারে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে বৈঠক হয় আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির। সে আলোচনায় কিছু রাজনৈতিক কথাবার্তা উঠলেও মূলত দুই দেশ কিভাবে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে পারে সেটা নিয়েই মূলত কথা হয়। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে সেখানে উদাহরণ হিসেবে আসে ব্রিটেনের। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে ব্রিটেনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা অস্বচ্ছতা ছিল কিন্তু তাদের উন্নয়নবিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পরে তাদের সেটা বদলে গেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রী যোগ দেন ওবামা আয়োজিত এবারের বিশ্ব কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বৈঠকে। এটা প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর হয়। বাংলাদেশে যে খাদ্য নিরাপত্তায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে সেটা তুলে ধরা হয় সেখানে। এ ছাড়া আইএফসি ও মেগার সঙ্গেও বৈঠক হয়। আইএফসি ও মেগা মূলত বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ করে থাকে। মেগা ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্রে বিনিয়োগ করবে ৮শ’ মিলিয়ন ডলার।
নিউইয়র্কে ইকোসোক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী। ওই প্রবন্ধে তিনি স্বল্পন্নোত দেশগুলোর বাণিজ্যিক নানান সমস্যা ও তার ভেতর দিয়ে অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের কয়েকটি বিষয় তুলে আনেন। যেমন তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো আমেরিকার বাজারে বিনা শুল্কে টেক্সটাইল পণ্য রফতানি করতে পারছে অন্যদিকে স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বড় আকারের শুল্ক দিতে হচ্ছে। তিনি এ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তার গত পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বকালে আমেরিকার যেকোন অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেই সেখানে তিনি এ শুল্ক মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের জন্যে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি সেখানে তাঁর স্বভাবসুলভ খোলামেলা ভাষায় বলেন, তিনি দাবি করেন না যে বাংলাদেশ সব ধরনের লাল ফিতার বাঁধন থেকে বিনিয়োগকে মুক্ত করেছে। তবে তিনি নিশ্চয়তা দেন তাঁর সরকার এ বিষয়ে অনেক অগ্রসর হয়েছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিনিয়োগ বোর্ডের কথা তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ করেন ওয়ান উইন্ডো সার্ভিসের কথা। এ ছাড়া তিনি বেসরকারী খাতে ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের আহ্বান জানান।
পার্শ্ববর্তী এসব মিটিংসহ ৫ জানুয়ারি পরবর্তী এই নতুন সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী ফিনান্সিয়াল সামিট বাংলাদেশের জন্যে যথেষ্ট গুরুত্ববহ ছিল। অর্থমন্ত্রীর মতে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ সফলতা বয়ে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper