বিএনপির দৃষ্টি এখন ভারতের নির্বাচনের দিকে

1

দলকে গুছিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিলেও বিএনপিতে এ নিয়ে কার্যত কোনো তৎপরতা নেই। দলটির নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি এখন ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রতি। এ ছাড়া দেশের ভেতরে উপজেলা পরিষদের বাকি তিনটি পর্বের নির্বাচনের প্রতি দলটির বিশেষ মনোযোগ রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই পর্বের ফলাফলে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। পরবর্তী তিনটি পর্বেও ফলাফলের ধারাবাহিকতা রাখতে চায় দলটি।
একই সঙ্গে দলটির নেতারা এখনো একটা বড় ভরসা করে আছেন বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর। তাঁরা উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়ে দেশে বিএনপির জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিদেশিদের কাছে নতুন করে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি সবার অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তবে এর মধ্যে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি বিএনপির নজর সবচেয়ে বেশি। আগামী ৭ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত এ নির্বাচন হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, ভারতের একচেটিয়া সমর্থন না থাকলে আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করতে হয়তো সক্ষম হতো না। এ নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে দেশটির বাংলাদেশ নীতিতে হয়তো কিছু পরিবর্তন আসতে পারে এবং নতুন সরকার বিএনপির ব্যাপারে এতটা নেতিবাচক না-ও হতে পারে বলে বিএনপির নেতারা আশা করছেন। এমনকি ভারতে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে খালেদা জিয়া সে দেশে সফরে যাওয়ারও উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি মে মাসের পর আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বলে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বলা হচ্ছে। ভারতের নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ কথা বলা হচ্ছে কি না? জানতে চাইলে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১ মার্চ রাজবাড়ীর জনসভায় বলেছেন, এখন দল গোছানো হচ্ছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর আন্দোলন শুরু হবে।
অবশ্য এর আগে গত ১৫ জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলনেও তিনি দল গোছানোর কথা বলেছিলেন। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলকে আন্দোলনের উপযোগী করতে ঢাকা মহানগর কমিটিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর এক মাস পার হলেও বাস্তবে এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বিএনপি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলন ডাকার কথা এ পর্যন্ত চার দফা বলা হলেও তা কবে নাগাদ হবে, দলের দায়িত্বশীল নেতারা কেউ বলতে পারেননি। এ ছাড়া ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। চলতি মাসের শেষ দিকে শ্রমিক দলের সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দল পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার অবস্থান থেকে এ বিষয়ে বলার মতো কিছু হয়নি।’
এ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, উপযুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ পেলে সব কিছুই হবে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনের ব্যর্থতার রেশ কাটিয়ে মাঠের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার মতো দক্ষ ও আস্থাশীল নেতাও খুঁজে পাচ্ছে না বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
তবে বিএনপি এখন উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই পর্বের ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। নেতারা মনে করছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর হতাশ নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচন ভালো ভূমিকা রাখছে। ৫ জানুয়ারির আগে-পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে যেসব নেতা-কর্মী এলাকাছাড়া হয়েছিলেন, তাঁরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের দল সংগঠিত হচ্ছে, জনমত সংগঠিত হচ্ছে, এমনকি নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছেন।’
অবশ্য বেশির ভাগ উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে এটাকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে নতুন করে বিবাদও সৃষ্টি করছে। এর ফলে উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলকে কতটা সংগঠিত বা উজ্জীবিত করা যাবে, তা নিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে সংশয়ও আছে।
এখনই আন্দোলন নয়: বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের আগে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনা নেই। চলতি বছরের শেষ দিকে এসে একটি জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার একটা লক্ষ্য স্থির করেছে বিএনপি, যাতে ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে সরকারকে আবার জাতীয় নির্বাচন দিতে বাধ্য করা যায়।
তবে নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবি আবার জাগিয়ে তুলতে এর আগে কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা পর্যায়ে জনসভার গতানুগতিক কর্মসূচি থাকবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে হতাহত নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঢাকায় একটি সম্মেলন করার কথাও ভাবছে বিএনপি। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলায় খালেদা জিয়ার সফর করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper