প্রিজনভ্যানে পুলিশ মেরে আসামি ছিনতাই: আগেই রেকি করেছিলো জেএমবির জঙ্গীরা

1

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ফাঁস করেছে গোয়েন্দারা। দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা জেএমবির জঙ্গীদের আদালতে নেয়ার সময়ে প্রিজনভ্যানে হামলা করে ছিনিয়ে নেয়া হবে। এই ধরনের পরিকল্পনা করেছে জেএমবির জঙ্গীরা। প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়ার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে তদন্তকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে এই ধরনের জবানবন্দী দিয়ে গেছে জেএমবির জঙ্গী রাকিবুল হাসান রাকিব। প্রিজনভ্যান থেকে তাদের কিভাবে ছিনতাই করেছে এবং ছিনতাই করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে তারও একটি বর্ণনা আছে তার জবানবন্দীতে।
রাকিবুল হাসান রাকিবের জবানবন্দীতে জানা গেছে, প্রিজনভ্যানে বোমা মেরে গুলি করে জেএমবির তিন জঙ্গীকে ছিনিয়ে নেয়ার দুই-তিন দিন আগে থেকেই রেকি করেছে ও মহড়া দিয়েছে জেএমবির জঙ্গীরা। তিন জঙ্গীকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকা ছাড়া আরও একটি জঙ্গী গ্রুপের অবস্থান ছিল ভালুকায়। গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের ভেতরে জঙ্গীদের কাছে ছিল তিনটি মোবাইল ফোন। এর মধ্যে একটি মোবাইল ফোন বন্ধুকযুদ্ধে নিহত রাকিবুল হাসান তার গোপনাঙ্গের সঙ্গে ঢুকেছিল কারাগারে। মৃত্যুদ-সহ সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গী আসামিরা কারাগারের ভেতরে তাদের কাছে রাখা মোবাইল ফোন দিয়ে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়া জঙ্গীদের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল তারা। দেশের অন্য কারাগারে যেসব জেএমবির জঙ্গী রয়েছে তাদের পর্যায়ক্রমে প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছে জেএমবির জঙ্গীরা। গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে এই ধরনের জবানবন্দী দিয়ে গেছে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে পুলিশের হাতে আটক হওয়া প্রিজনভ্যান থেকে ছিনতাই করে নেয়া জেএমবির জঙ্গী রাকিবুল হাসান রাকিব।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল প্রায় দশটার দিকে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে জঙ্গী মামলার তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার পর ধরা পড়ে রাকিবুল হাসান রাকিব বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারীদের কাছে রাকিব বলেছে, তাদের তিন জনকে আদালতে হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য দুই-তিন আগে থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের গাজীপুর, ত্রিশাল, ভালুকায় সহযোগী জঙ্গীরা রেকি করেছে ও মহড়া দিয়েছে। কিভাবে তারা প্রিজনভ্যান থেকে তাদের (জঙ্গী) ছিনতাই করবে এবং ছিনতাইয়ের পর তারা কোন পথ দিয়ে পালাবে তার একটি রেকি করেছে। ছিনতাই করার ঘটনার দুই-তিন আগে থেকে রেকি করেছে তারা। রেকি করার পর ছিনতাই করা এবং ছিনতাই করার পরবর্তীতে তাদের নিয়ে কিভাবে পালাবে তারও একটি মহড়া দিয়েছে।
জবানবন্দীতে রাকিব বলে গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ত্রিশাল এলাকার সাইনবোর্ডে যখন প্রিজনভ্যানে তাদের ছিনতাই করার ঘটনা ঘটানো হয় তখন আরেকটি গ্রুপের অবস্থান ছিল ভালুকায়। ভালুকায় অবস্থান করছিল প্রিজনভ্যান ছিনতাইয়ের নায়ক ফারুক হোসেনের গ্রুপ। ভালুকায় ছিনতাই করার আগেই ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় ছিনতাই ঘটনা সফল হয়ে যায়। রাকিবুল হাসানের জবানবন্দীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের মিল খুঁজে পেয়েছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা জঙ্গীদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখেছে তাদের ভালুকায় থাকা আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে কথোপকথন হয়েছে। এই ফারুক হোসেন প্রিজনভ্যান থেকে ছিনতাই করে নেয়া জঙ্গীদের সঙ্গে কারাগারে ছিলেন একত্রে। জামিনে মুক্ত হয়ে ফারুক হোসেন বের হয়ে আসার সময় তাদের কথা দিয়েছিল যে, সে জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে ঠিকই, তাদেরও প্রিজনভ্যান ছিনতাই থেকে নেবে। ফারুক হোসেন তার কথা রক্ষা করেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার দফতরে সংরক্ষিত তথ্যে দেখা যায়, ফারুক হোসেনই প্রিজনভ্যান থেকে তাদের ছিনতাই করে নেয়ার জন্য প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ট্রাকের ব্যবস্থা করেন। এ জন্য তার বাজেট ছিল ৫০ লাখ টাকা। আর গ্রেফতারকৃত জাকারিয়া যে গাড়িরচালক হিসেবে পরিচিত জেএমবির জঙ্গী সে সংগ্রহ করেছে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বোমা। জাকারিয়ার স্ত্রী স্বপ্না, স্বপ্নার বাবা অর্থাৎ জাকারিয়ার শ্বশুর গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে রায়হান নামের আরেক জেএমবির জঙ্গীও। কিন্তু গ্রেফতার করা সম্ভবপর হয়নি ছিনিয়ে নেয়া অপর দুই জঙ্গীকে। প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়া জেএমবির ৩ জঙ্গীর মধ্যে রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাসেল বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এখনও পলাতক আছে সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সজীব ওরফে তৌহিদ ও মিজান ওরফে বোমা মিজান ওরফে জাহিদুল হাসান সুমন।
জেএমবি যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ॥ জেএমবি যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। হঠাৎ করেই জ্বলে উঠেছে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি। প্রিজনভ্যানে গুলি করে বোমা মেরে পুলিশ হতাহত করে ছিনিয়ে নিয়েছে জেএমবির তিন জঙ্গী। এই তিন জঙ্গীকে ছিনিয়ে নেয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল ঘুমে। কিন্তু আবদুর রহমান এবং সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলাভাইয়ের ফাঁসি কার্যকরের পরও থেমে থাকেনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির তৎপরতা। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ছয় শীর্ষ জঙ্গীর মৃত্যুদ-ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে প্রকাশ্য তৎপরতা কমে এলেও গোপনে বিভিন্ন নামে ঠিকই সংঘটিত হতে থাকে জঙ্গীরা। মাঝে মধ্যে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আটকও হয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু তাদের তৎপরতা নিয়ে আতঙ্ক ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশাসনে। তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে জঙ্গীরা যেভাবে তাদের অস্তিত্বের জানান দিল তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। জেএমবির মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই এবং যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আরও এক জঙ্গীকে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে একটি মামলার শুনানির জন্য ময়মনসিংহের আদালতে যাচ্ছিল পুলিশ। কিন্তু ত্রিশালে পৌঁছা মাত্র প্রিজনভ্যানে বোমা হামলা ও গুলি করে তিনজনকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গীরা। পরে ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গী রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাসেল পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। অন্য দুই জঙ্গীকে ধরতে চলছে অভিযান। তারা যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য সীমান্তে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড এ্যালার্ট পর্যন্ত জারি করা হয়েছে।
মাত্র আট দিনের মাথায় ॥ বাংলাদেশের জিহাদে নামার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গীগোষ্ঠী আলকায়েদার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির অডিওবার্তা প্রকাশের মাত্র ৮ দিনের মাথায় জঙ্গী ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জঙ্গী যোগাযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ বলেন, ‘জিহাদের ডাকে জঙ্গীদের উদ্বুদ্ধ হওয়া থেমে নেই। ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’। আর বড় ভাইয়ের হুকুম পালন করা ফরজ। এদের সর্বোচ্চ বড় ভাই এখন হলো আয়মান আল জাওয়াহিরি। অতএব, তার ডাকে জঙ্গীরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে এ রকম অনুমান করা একেবারেই অমূলক নয়। জেএমবির নেতা ফাঁসির আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে জঙ্গীরা দেশে বড় ধরনের নাশকতার শক্তির জানান দিয়েছে বলেও মনে করেন এ নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গী দমনে সাফল্যের দাবি করলেও এখনও যে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি তার জানান দিয়েছে তো জঙ্গী ছিনতাইয়ের ঘটনাটিতেই। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সহায়তাও পাচ্ছে তারা। কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারলে জঙ্গীরা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ছিনতাইয়ের নায়ক ফারুক হোসেন ॥ প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গী রাকিবের আটকের পর পুলিশকে জানায়, ত্রিশালের এই অভিযানের পরিকল্পনা হয় অন্তত ১৫ দিন আগে। জেএমবির নতুন এবং পুরনো ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য এই অভিযানে অংশ নেয়। জাকারিয়া নামে এক জেএমবি সদস্য এই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন। হামলায় ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস তিনি চালাচ্ছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার জিনারপুর গ্রামের জাকারিয়া ২০০৫ সালে গ্রেফতার হন জঙ্গী তৎপরতার অভিযোগে। ২০০৬ সালে সাত বছরের কারাদ- হয় তার। দ- শেষ করে গত বছর মুক্তি পান তিনি। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টাঙ্গাইলের সখিপুর থেকে আটক হন জাকারিয়া। তিনি পুলিশকে জানান, হামলার জন্য ২১ লাখ টাকা খরচ করে দুটি মাইক্রোবাস কেনেন তারা। এর পাশাপাশি একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেলও ব্যবহার করা হয়। হামলায় অংশ নেয়া ফারুক নামের একজন এই টাকা দিয়েছেন। ২০০৭ সালে কাশিমপুর কারাগারে এই দুজন একসঙ্গে বন্দী ছিলেন। বিস্ফোরক মামলায় দ-প্রাপ্ত ছিলেন ফারুক।
নানা নামে সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গীরা ॥ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় একই সময় সাড়ে পাঁচ শ’রও বেশি বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয় জেএমবি। সে সময় চারদলীয় জোট সরকারের একটি অংশ এই জঙ্গীদের সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ ওঠে। জেএমবি নেতা বাংলাভাইয়ের অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেছিল সে সময়ের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ফাঁসি হয় এদের ছয়জনের। তবে দেশে জঙ্গীগোষ্ঠী কেবল এই দুটি নয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা বাহিনীর হিসেব মতে, দেশে ধর্মীয় ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সংখ্যা শতাধিক। একটি সংগঠন নিষিদ্ধ হলে কিছু লোক এর নামেই গোপন তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি তৈরি করে নতুন নামে সংগঠন। এভাবে বেড়েছে সংগঠনের সংখ্যা। এখনও বাংলাদেশে হরকত-উল-জিহাদ, জেএমবির পাশাপাশি আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, শাহাদত-ই আল হিকমা-বাংলাদেশ, হিযবুত তাওহীদ, তৌহিদী ট্রাস্ট, আল্লাহর দল, জামাত-আস-সাদাত, শাহাদত-ই-নবুয়ত, খতমে নবুয়ত আন্দোলন, জামিউতুল ফালাহ, ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, মিয়ানমার লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেন্ট পার্টি, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট, আল হারাত-আল-ইসলামিয়া, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট, তৌহিদী জনতা, জুমা’আতুল আল সাদাত, তামির উদ-দ্বীন বাংলাদেশ, আল খিদমত, হিজবুল মাহদি, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, দাওয়াতি কাফেলা, বাংলাদেশ এন্টি টেররিস্ট পার্টি, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল ইসলাম মার্টেনস ব্রিগেড, সত্যবাদ, মুসলিম মিল্লাত, শরিয়া কাউন্সিল, জমিয়ত আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ, কলেমার জামাত, তাজির বাংলাদেশ, সাহাবা পরিষদ, কাতেল বাহিনী, তাজির বাংলাদেশ, হায়াতুর ইলাহা, ফোরকান মুভমেন্ট, জামিউতুল এহজিয়া এরতাজ, আনজুমানে তালামিজ ইসলামিয়া নামে জঙ্গী সংগঠন কাজ করছে। গোয়েন্দা সংস্থায় সংরক্ষিত রেকর্ড থেকে নানা নামে জঙ্গী সংগঠন সংগঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত ॥ জঙ্গী তৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়াদের একটি বড় অংশের সঙ্গে এবং তার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই ছিলেন শিবিরের সক্রিয় সদস্য। শায়খ রহমানও জামায়াত নেতাদের সুপারিশে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন, বাংলাভাই বলতে কিছু নেই। এমনকি সরকারেরও এ ব্যাপারে কিছুর করার নেই। এর মাধ্যমে তখন তারা জেএমবিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছিল। এসব কিছু প্রমাণ করে যে, সবকিছুর মূলেই রয়েছে জামায়াত এবং তাদের রাজনৈতিক আদর্শ। ত্রিশালে ছিনিয়ে নেয়া এক জঙ্গী রাকিব হাসান রাসেল ওরফে হাফেজ মাহমুদও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। ২০০৩ সালে একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাতকার দিয়েছিল সে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে খেটেছিলেন বলে টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাতকারে বলেছিলেন বন্ধুকযুদ্ধে নিহত রাকিবুল হাসান রাকিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper