শিবিরের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ৫০ দেশে বিস্তৃত, তহবিল যোগায় জামায়াত

1

বিশ্বের দশ সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর তালিকায় তিন নম্বরে উঠে আসা জামায়াতের সংগঠন ছাত্রশিবিরের নেটওয়ার্ক এখন আর কেবল দেশে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইসহ বিদেশী মুরব্বিদের সহায়তায় দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে শিবির বিশ্বের অন্তত ৫০ দেশে বিস্তৃত করেছে তার সাংগঠনিক কর্মকা-। গোপনে সদস্য হিসেবেও শিবির সক্রিয় অনেক আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী ফোরামে। ছাত্রশিবিরের সভাপতিদের এ সব আন্তর্জাতিক ফোরাম বা জোটে মহাসচিবের দায়িত্ব পালনেরও নজির আছে। অনুুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সন্ত্রাসী সংগঠনটির আন্তর্জাতিক নানা অপতৎপরতার তথ্য। জানা গেছে, নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করলেও শিবির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে একেক নামে একেক দেশে সংগঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে নাম পাল্টানো শাখার রয়েছে আলাদা কর্মপদ্ধতি। তবে দেশের মতো বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রেও শিবিরের নাম পাল্টানো এ সব সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করছে জামায়াত। সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বের দশ সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর তালিকায় নাম আসার পর এখন দেশের ভেতরে জনরোষ ছাড়াও বিদেশের গোপন সাংগঠনিক শাখা নিয়ে আতঙ্কে আছে জামায়াত-ছাত্রশিবির।
আইএইচএস জেনস ২০১৩ গ্লোবাল টেররিজম এ্যান্ড ইনসার্জেন্সি এ্যাটাক ইনডেক্সে বিশ্বের দশ সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর তালিকায় নাম আসার প্রেক্ষাপটে শিবির নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। জামায়াত-শিবিরের বিষয়ে আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। জঙ্গীবাদ দমনে অবিলম্বে জামায়াত-শিবিরসহ সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদী ও তাদের মদদদাতাদের রাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করতে হবে। বিলম্ব হলে দেশের অবস্থা হবে ভয়াবহ। জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য হিসেবে ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক লবিং সক্রিয় আছে। অর্গানাইজেশনের সঙ্গে রয়েছে শিবিরের সাংগঠনিক সম্পর্ক। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ তাহেরসহ একাধিক সভাপতি এক সময় এ ফেডারেশনের মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ডা. আবদুল্লাহ তাহের বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবেও আন্তর্জাতিক ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুধু তাই নয়, ‘ওয়ার্ল্ড এ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়থ’ নামক একটি জোটেরও সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছাত্রশিবির। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সঙ্গে সর্বদা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলে ছাত্রশিবির। আইএসআই তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়- এমন তথ্যও বেরিয়েছে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুসন্ধানেও। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গবেষণারত ‘সাউথ এশিয়ান টেররিজম পোর্টাল’ নামক সংস্থা একাধিকবার বলেছে, শিবির একটি জঙ্গী সংগঠন। যার সঙ্গে রয়েছে আইএসআইয়ের সম্পর্ক। সংস্থাটি এও বলেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন হরকত-উল জিহাদসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের নেটওয়ার্কে কাজ করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ২০১২ সালে এর সাউথ এশিয়া এনালাইসিস গ্রুপ নামক একটি গবেষণা সংস্থা ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছিল। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি করত শিবিরের কর্মকা-ই যথেষ্ট। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে শিবিরের চেহারা আরও বেশি প্রকাশ হয়ে পড়ে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের দিকে তাকালেই। দেশের বাইরেও ভিন্ন ভিন্ন নামে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই নাম পরিবর্তনের কারণ হিসেবে জানা যায়, সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও জাতীয়তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে শিবিরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে সে দেশের নাগরিকদের মধ্যে একে বিদেশী সংগঠন বলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়। এ ছাড়া সংগঠনে যাতে অন্যান্য মতাদর্শের মানুষকে সহজে জড়ানো যায় এ কারণেও শিবির নাম না দিয়ে ভিন্ন নামে সংগঠন পরিচালনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার চোখ এড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী শিবিরের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি লুকাতে একেক দেশে একেক নাম দেয়া হয়েছে এ সংগঠনের। একই কারণে বিদেশে এ সব সংগঠন কাগজে-কলমে পরিচালনা করে সে দেশের নাগরিকরাই। এ সব নাগরিক জামায়াত-শিবির না হয়ে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী অন্য কোন সংগঠনের সদস্য। সূত্রগুলো বলছে, সাধারণত শিবিরের উদ্যোগেই দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পর্যায়ের নেতাদের স্টুডেন্ট বা অন্য কোন ভিসায় এ সব দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া যারা হত্যা বা মামলাসংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে যায় তাদেরও বিদেশে পাঠিয়ে এ সব সংগঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়। মাঝে মধ্যে বাংলাদেশ থেকে শিবির ও জামায়াতের কোন কোন নেতা গিয়ে বাইরের দেশের নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে আসেন। সেখানে বসবাস করা নেতারা সে দেশের নাগরিকদের সঙ্গে মিশে সাংগঠনিক এ সব নির্দেশনা সুকৌশলে বাস্তবায়ন করে।
কোন দেশে কী নামে শিবির তার কার্যক্রম চালাচ্ছে এর সকল তথ্য জানা না গেলেও দেশ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও শিবিরের নেটওয়ার্ক নিয়ে কর্মরত বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন অধিকাংশ তথ্যই। জানা গেছে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নাম পরিবর্তন করে ভারতে হয়েছে ‘স্টুডেন্ট ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়া’, শ্রীলঙ্কায় ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব শ্রীলঙ্কা’, পাকিস্তানে ‘ইসলামী জামায়াতই তালাবা’, সিঙ্গাপুরে ‘দ্য মুসলিম কনভার্টস এ্যাসোসিয়েশন’, মিয়ানমারে ‘ইত্তিহাদ আল-তুল্লাব আল মুসলিমিন’, ইন্দোনেশিয়ায় ‘আল-ইসলামী লিল-তুল্লাব’, দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট ও ইসলামিক দাওয়া মুভমেন্ট’, তাঞ্জানিয়ায় মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন’, নাইজিরিয়ায় ‘এমএসএস ইসলামিক সেন্টার’, উগান্ডায় ‘মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন’, বেলজিয়ামে ‘ইউনিয়ন ইসলামিক’, ফ্রান্সে ‘এ্যাসোসিয়েশন দ্য মুসলমাঁ’, জার্মানিতে ‘মুসলিম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’, ইউরোপে ‘ইয়ুথ মুসলিম এ্যাসোসিয়েশন’, ইতালিতে ‘হোল্লাদ সেনত্রো ইসলামিকো দ্য মিলানো’, স্পেনে এ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা আল-আন্দালুস’, সুইজারল্যান্ডে ‘এ্যাসোসিয়েশঁ কালচারেলোই ডেস’, সাইপ্রাসে ‘ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’, আলবেনিয়ায় ‘ইত্তিহাদ আল-তালিবি দ্য মুসলিমিন’, পোল্যান্ডে ‘মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন’, হাঙ্গেরিতে ‘মুসলিম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’, সুইডেনে ‘ফেডারেশন অব ইসলামিক স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন’, যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফেডারেশন অব অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যান্ড ইয়ুথ’, ইংল্যান্ডে ‘এফওএসআইএস’ ইউক্রেনে ‘স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার’, তাইওয়ানে ‘ইসলামিক কালচার ইনস্টিটিউট’, মালয়েশিয়ায় ‘মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট অব মালয়েশিয়া’, ফিজিতে ‘ফিজি মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট’, নেপালে ‘ইসলামী ইউয়া সান’, কোরিয়ায় ‘কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন’, জাপানে ‘মুসাতো সি’, থাইল্যান্ডে ‘দ্য মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন’, কাজাখস্তানে ‘ডিরেক্টর অব ইফসো ইন সেন্ট্রাল এশিয়া’, ঘানায় ‘ইত্তিহাদ আল-তালিবি আল-মুসলিমিন’, আলজিরিয়ায় ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’, জর্দানে ‘জর্দানিয়ান স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’, তুনুসে ‘ই-ইত্তিহাদ ই এম লিল-তালিবি’, সুদানে ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মুসলিম ওমেন’ ও ‘আল-ইত্তিহাদ লিল তুল্লাব’, মৌরিতানিয়ায় ‘ক্লাব ফর ইয়ুথ মৌরিতানিয়া’, আইভরিকোস্টে এ্যাসোসিয়েশন দেস ইলেভেস’, মরিশাসে ‘মুসলিম স্টুডেন্ট মুভমেন্ট’ ও কেনিয়ায় ‘ইয়ং মুসলিম এ্যাসোসিয়েশন।’ দেশের মতো শিবিরের বিদেশের এ সব শাখাও নিয়ন্ত্রণ করে জামায়াত। সংগঠনের কর্মপদ্ধতি ও পরিবেশ অনুযায়ী কখন কী ধরনের কার্যক্রম হাতে নিতে হবে সে বিষয়ে জামায়াতের পরামর্শে কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হয় বলে জানা গেছে। বিদেশের এ সব সংগঠন জামায়াত-শিবিরের দেশের বাইরের নিরাপদ আস্তানা। দেশে বড় ধরনের অরাজকতা এবং হত্যাকা- ঘটিয়ে এ সব সংগঠনের ছত্রছায়ায় বিদেশে আশ্রয় নেয় শিবিরের খুনী সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া এ সব সংগঠন থেকে প্রতিমাসে শিবিরের ফান্ডে লাখ লাখ টাকা পাঠানো হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে সংগঠন থাকার কথাটি স্বীকার করেছেন শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতা। তবে শিবিরের এ সব সংগঠন কোন দেশেই সহিংস কোন কার্যক্রমে লিপ্ত নয় বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা। দেশের বাইরে কেন ভিন্ন নামে ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে শিবিরের ঢাবি শাখার সাবেক এক সেক্রেটারি বলেন, সংগঠনে যোগ দিতে বাইরের দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম যেন বাধা হয়ে না ওঠে সে জন্যই নাম বদলে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার চোখ এড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী শিবিরের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি লুকাতে একেক দেশে একেক নাম দেয়া হয়েছে এ সংগঠনের। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক অনেক নেতাই সাংগঠনিক প্রয়োজনে এখন বিদেশে রয়েছেন। সংগঠনের কর্মপদ্ধতি ও পরিবেশ অনুযায়ী কখন কী ধরনের কার্যক্রম হাতে নিতে হবে সে বিষয়ে জামায়াতের পরামর্শে কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হয়।
বিগত সময়ে জাতীয় হত্যাকান্ডে জামায়াতী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করেছিলেন বছরের পর বছর। এই সংগঠনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় তাদের যাবতীয় নিরাপত্তা ও অন্য সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে বলে জানা গেছে। এমনকি বছরের পর বছর এ সব সংগঠনের ছত্রছায়ায় আত্মগোপনও করে থাকেন অনেকে। যেমন ২০০৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঈদ-উল-ফিতরের দিন ব্রাশফায়ার করে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার নেতা ফারুক সিদ্দিকী ও সোলায়মান খানের হত্যাকারী শিবির ক্যাডার এখন সুইজারল্যান্ডে রয়েছে। বিদেশে শিবিরের এ সব শাখা-সংগঠন ব্যবস্থাপনার জন্য আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নামে রয়েছে শিবিরের একটি আলাদা শাখা। এ শাখা শিবিরের বিদেশী সংগঠনের সঙ্গে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। বিদেশী সংগঠনকে পরিচালনার নির্দেশনাও দেয় এ সংগঠন। দেশ থেকে কেউ বিদেশে গেলে কিংবা সংগঠন পরিচালনার জন্য কাউকে পাঠানো হলেও এ শাখা যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট দেশের সংগঠনের সঙ্গে। আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার এবারের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় কোন নেতাই তাদের নেটওয়ার্ক নিয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। অথচ কিছুদিন আগেও দাপটের সঙ্গে বলেছেন তাদের সাংগঠনিক অবস্থার কথা। এখন উল্টো শিবির নেতারা দাবি করছেন, তথাকথিত বিদেশী তালিকাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত হইচই করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান এক বিবৃতিতে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার বিষয়ে বলেছেন, যেখানে ‘আইএইচএস’ নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভাড়ায় খাটা সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন, সেখানে সেই সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে হইচই করে দেশী কিছু গণমাধ্যম নিজেদের দেউলিয়ত্বের পরিচয় দিচ্ছে। ছাত্রশিবির সন্ত্রাসী না শান্তির পতাকাবাহী সংগঠন, এটা দেশের মানুষ ভাল করেই জানে। উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কোন তালিকা প্রকাশ ও তা সামনে রেখে অপপ্রচার দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় এই ছাত্র সংগঠনের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। শিবির নেতারা বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, দায়িত্বশীল কোন সংস্থা কখনই শিবিরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে জঙ্গী-জঙ্গী বলে চিৎকার করে এবং তথাকথিত তালিকাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত হইচই করে শিবিরের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper