পিছিয়ে থেকেও ‘ভোটের হিসাবে’ আ. লীগে সন্তোষ

1
উপজেলা নির্বাচনের দুই ধাপে বিএনপির তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ‘৩৫ শতাংশের বেশি’ সাফল্য আসায় ‘ভোটব্যাংক’ নিয়ে ‘চিন্তিত নন’ আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা।

তবে ২০ উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিতরা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ায় অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতা।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় পর্বের ভোট শেষে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেনটি আওয়ামী লীগের কেউ।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থায় উপজেলা নির্বাচনে যে ফল হয়েছে, তাতে তারা সন্তুষ্ট।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব মিলিয়ে ২১০ উপজেলার মধ্যে বিএনপি সমর্থক চেয়ারম্যানরা ৯৬ উপজেলায় জয়ী হয়েছেন। বিজয়ী জামায়াত নেতাদের নিয়ে ১৯ দলের চেয়ারম্যানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬ জনে।

অন্যদিকে দুই পর্ব মিলিয়ে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ জনে। অর্থাৎ দশম সংসদ নির্বাচন বয়কটকারী ১৯ দলের উপজেলা চেয়ারম্যানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে ৩৭ জন বেশি।

এই ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগোযোগ করা হলে তিনি সাংগঠনিক বিষয়ে দলের ‘মুখপাত্র’ বা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিনি ঢাকার বাইরে। এ বিষয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন।

তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা তো আক্ষরিক অর্থেই দলের দিকে মনোযোগ দিয়েছি গত সেপ্টেম্বর থেকে। আমরা কাজ করছি। ফল তো একদিনে পাওয়া যায় না। উপজেলা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যে রেজাল্ট হয়েছে সেটা ইতিবাচক।

“তবে জামায়াত যে ২০টি উপজেলা চেয়ারম্যান পেয়ে গেল- এটা উৎকণ্ঠার বিষয়”, বলেন ক্ষমতাসীন দলের এই নীত নির্ধারক।

সরকার ও বিরোধী দলে একইসঙ্গে থাকা জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে দুই পর্ব মিলিয়ে চেয়ারম্যান পেদে জয় পেয়েছেন মাত্র দুজন।

এ প্রসঙ্গ টেনে ওই আওয়ামী লীগ নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ইলেকশনে আমরা যা করেছি, একাই করেছি। আর বামদলগুলোর তো খোঁজ পাওয়া যায় নাই। জাতীয় পার্টির অবস্থাও ভালে না।”

দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরেক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “আমরা কী গত পাঁচ বছর কাউকে ডেকে এক কাপ চা খাইয়েছি? সে হিসাবে তো রেজাল্ট অনেক ভাল।”

পিছিয়ে থেকেও ভোটের ফলকে ‘ইতিবাচক’ বলার কারণ হিসাবে ‘ভোট ব্যাংক’ অটুট থাকার কথা বলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

তার যুক্তি, যেসব উপজেলায় দলের ভোট বেশি বলে ধারণা করা হয়, সেসব উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিতেছেন। সব মিলিয়ে  ২১০টি উপজেলার মধ্যে ৭৯টিতে এখন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। এই হিসাবে সাফল্যের হার ৩৫ শতাংশের বেশি।

গত ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে, যাতে বিজয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে কৃষক লীগের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যেসব উপজেলায় দলের স্থানীয় নেতাদের পরাজয় হয়েছে, দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেসব স্থানে দলের একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী (দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী ) হয়েছেন।

স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের প্রথম দুই পর্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ের জন্য কাজ করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ বলেছিল- তারা সন্তুষ্ট।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-হানিফ সে সময় বলেছিলেন, “এটা স্থানীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনটা দলীয়ভাবে হয় নাই। এখানে দলীয় প্রতীক ছিল না। এটা নির্দলীয় নির্বাচন। এখানে যেই জয়ী হয়েছে- তিনি ব্যক্তি ইমেজে জয়ী হয়েছেন।”

এ নির্বাচন দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান মাপা ঠিক হবে না বলেও সে সময় মন্তব্য করেছিলেন হানিফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper