সাহারা প্রধান সুব্রত গ্রেপ্তার

1
বিনিয়োগকারীদের পাওনা টাকা ফেরত না দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে একদিন লাপাত্তা থাকার পর পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছেন সাহারা ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী সুব্রত রায়।

লখনৌ পুলিশের পক্ষে থেকে শুক্রবার সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টকে বিষয়টি জানানো হয়।

সুব্রত রায়ের জামিনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে শুনানির আবেদন করা হলেও সুপ্রিম কোর্ট তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানানো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে।

বাঙালি বংশোদ্ভূত সুব্রতর শিল্পগ্রুপ সাহারা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর।

সাহারা গ্রুপের দুটি কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের পাওনা ২০ হাজার কোটি রুপি ফেরত না দেয়ার অভিযোগে এক মামলায় হাজির গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এই ভারতীয় ধনকুবেরের বিরুদ্ধে ‘জামিন অযোগ্য’ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আদেশে বলা হয়, তাকে গ্রেপ্তার করে আগামী ৪ মার্চ দুপুর ২ টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে।

সে অনুযায়ী লখনৌ পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকালে সুব্রতর বাড়িতে দুই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও খালি হাতে বেরিয়ে আসে।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার প্রাসাদপম ভবন ‘সহারা শহর’ ঘিরে ফেলে। ২৭০ একর জমির ওপর হোয়াইট হাউজের ঢঙে গড়ে তোলা ওই ভবনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে মোতায়েন করা হয় পুলিশের গাড়ি।

কিন্তু অভিযান শেষে গোমতীনগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অজিত সিংহ চৌহান জানান, বাড়িতে সুব্রত রায়কে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যহতি চেয়ে বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টে লিখিত আবেদন করেন সাহারা প্রধান সুব্রত। আদালতে হাজির হতে পারছেন না বলে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।

তার ওই আবেদনে বলা হয়, তার ৯২ বছর বয়সী মা মৃত্যুশয্যায়। এই অবস্থায় তাকে হাসপাতালে মায়ের পাশে থাকতে হচ্ছে।

ওই আবেদন নাকচ করে আদালতের আদেশে বলা হয়, “আদালতের হাত অনেক লম্বা।”

লখনৌর গোমতীনগর পুলিশের অতিরিক্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট হাবিবুল হাসান বলেছেন, সুব্রতের মাকে তারা বাড়িতেই দেখেছেন। কিন্তু সুব্রত সেখানে ছিলেন না।

এই অবস্থায় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সুব্রত। এরপর শুক্রবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।

সুব্রতর ছেলে সীমান্ত রায় এক বিবৃতি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন নাগরিক হিসাবে তার বাবা লখনো পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। কর্তৃপক্ষকে সব বিষয়েই সহযোগিতা করছেন তিনি।

এর আগে সকালে এক বার্তায় সুব্রত রায় বলেন, তিনি মোটেও পলাতক নন। আদালত যে নির্দেশ দেবে, তা নিঃশর্তভাবে মেনে চলতেও তিনি প্রস্তুত।

অর্থ-বাণিজ্যের সাময়িকি ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সুব্রত রায় ভারতের পঞ্চম শীর্ষ ধনী, যদিও সাহারা প্রধানের দাবি, তিনি নিজে এক মিলিয়ন ডলারেরও মালিক নন।

১৯৭৮ সালে ‘সাহারা ইন্ডিয়া পরিবার’ প্রতিষ্ঠা করেন সুব্রত রায় সাহারা। মহারাষ্ট্রে অ্যাম্বি ভ্যালি নামের আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলে সুনাম অর্জন করে সাহারা।

আবাসন প্রকল্প দিয়ে শুরু হলেও এখন অর্থনৈতিক সেবা, জীবন বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড, আবাসিক খাতে অর্থ যোগান, অবকাঠামো, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বিনোদন, চলচ্চিত্র প্রযোজনা, স্বাস্থ্যসেবা, পণ্য উৎপাদন, ক্রীড়া এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে সাহারার ব্যবসা ছড়িয়ে আছে।

টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে, ভারতীয় রেলওয়ের পর জনশক্তির দিক দিয়ে সাহারা গ্রুপ দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান।

৬৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর আদি বাড়ি বাংলাদেশের বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। ২০১২ সালে তিনি ঢাকা সফরে এলে বাংলাদেশের আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করে সাহারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper