লন্ডনে সরকারবিরোধী লবিংয়ে ব্যস্ত তারেক

1

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের কানভারি করার ক্যাম্পেইন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসব ক্যাম্পেইনের কোনো কোনোটি মিডিয়ায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রচার করলেও কোনো কোনোটি আবার অনেকটা গোপন রেখে সবার অগোচরেই সারছেন তিনি।

প্রতিটি ক্যাম্পেইনেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের কাছে অগণিত অভিযোগ উত্থাপন করছেন তারেক। মঙ্গলবার এ ক্যাম্পেইনেরই অংশ হিসেবে তারেক গিয়েছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। তবে তার এ যাওয়া ছিল অনেকটা মিডিয়ার অগোচরে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গেটের সামনে সহযাত্রী গ্রুপের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলার সময় এক উৎসুক পথচারীর ক্যামেরায় হঠাৎ করেই ধরা পড়েন তারেক।

ছবিতে তারেকের সহযাত্রীদের মধ্যে বিএনপির ব্রিটেন শাখার কোন শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি। ছবিটি হাতে আসার পর তারেকের পার্লামেন্টে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। তবে কার সঙ্গে দেখা করতে ও কেন তারেক মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। একজন ছাড়া জানা যায়নি তার পার্লামেন্ট অভিমুখি সহযাত্রী গ্রুপের অন্য সদস্যদের দলীয় পরিচয়। তারেকের সামনের দিকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি হলেন ব্যারিস্টার আবু সায়েম, যিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে একটি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অব্যাহত ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার তারেক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখা করেছেন একজন এমপির সঙ্গে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছেন বিভিন্ন অভিযোগ। ওই এমপিকে তারেক শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ত্রমবর্ধমান বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, চলমান উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের সরকারি হয়রানি ইত্যাদি অভিযোগগুলো ওই ব্রিটিশ এমপির কাছে উত্থাপন করেন তারেক।

সূত্র জানায়, শুধু নিজে নন, ব্রিটেনে তার দলের প্রতিটি শাখা কমিটিকেও যার যার এলাকার স্থানীয় এমপির সঙ্গে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লবিং করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক।পাশাপাশি দলের পক্ষে সময় সময় হাউস অব পার্লামেন্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও কমনওয়েলথ অফিসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনেরও নির্দেশ দিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদের। এক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের সঙ্গে ভোটার হিসেবে দলের স্থানীয় নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

তারেকের নির্দেশে এরই মধ্যে কয়েকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ও ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি পালন করেছে দলের ব্রিটেন শাখা।

সম্প্রতি তারেক নিজেও দেখা করেছেন কমনওয়েলথের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে।

এদিকে, ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে তারেক দলের স্থানীয় শীর্ষনেতাদের সঙ্গে না নিয়ে কমিউনিটিতে অনেকটা অপরিচিত মুখ এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়েছেন।  এ নিয়েও কমিউনিটিতে চলছে গুঞ্জন। যাদেরকে নিয়ে তারেক লবিং করতে যান, আসলে তারা কারা? তাদের দলীয় পরিচয়ই বা কি? তারা কি জামায়াত নিয়োজিত কোনো লবিস্ট? দলের স্থানীয় শীর্ষনেতাদের কি তারেক আস্থায় নিতে পারছেন না? ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সঙ্গে ক্যাম্পেইন পর্বের কোনো কোনোটি সাংবাদিকদের জানানো হলেও কোনো কোনোটি আবার কেনই বা গোপন রাখা হয়?- এমন সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন কমিউনিটিতে।

তাছাড়া ব্রিটেনে তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে লবিংয়ের বিষয়টি কতোটুকু যৌক্তিক এবং দেশের সরকারের কাছে ওয়ান্টেড একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির সরকারবিরোধী ক্যাম্পেইনই বা ব্রিটিশ রাজনীতিকরা কিভাবে নিচ্ছেন- এমন সব বিষয়ও আলোচিত হচ্ছে লন্ডনের কমিউনিটিতে।

সংবাদসূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper