হলফনামায় ‘ভুল’ ছিল দাবি রুহুলের

2

হলফনামায় সংখ্যাগত ‘ভুল’ হয়েছে এবং তা অসাবধানে বলে দাবি করেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ আ ফ ম রুহুল হক। একই সঙ্গে তাঁর নিজের নামে ‘কোনো ধরনের অবৈধ সম্পদ’ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ দাবি করেন। রুহুল হক এ সময় বলেন, ‘২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামা পূরণের ক্ষেত্রে অসাবধানতাবশত এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার স্ত্রীর সম্পদ ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৯২ টাকার জায়গায় সাত কোটি ৯৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা লেখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হলফনামায় অনিচ্ছাকৃত ও ভুলবশত এ তথ্য দেওয়ার পর আমি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এফিডেভিটের মাধ্যমে সংশোধনীর আবেদন করি। নির্বাচন কমিশন আমার আবেদন গ্রহণ করেছে।’
কিন্তু হলফনামায় এত বড় ভুল কীভাবে হলো? পাঁচ বছরে বিপুল সম্পদের মালিকই বা কীভাবে হলো তাঁর পরিবার?—এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের এই সাংসদ বলেন, ‘আমি যা বলার দুদককে বলেছি। আর বলতে পারব না।’
ভবনের পঞ্চম তলায় ভিআইপি রুমে সাবেক এই মন্ত্রীকে অতিরিক্ত সম্পদ ও হলফনামার তথ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলম।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, আ ফ ম রুহুল হকের ব্যাংক হিসাব গত পাঁচ বছরে বেড়েছে বহুগুণ। ব্যাংক হিসাবের বেশির ভাগ তাঁর স্ত্রী ইলা হকের নামে। ২০০৮ সালে রুহুল হক ও তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাঁদের ব্যাংকে রয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা। সে সময় ইলা হকের নামে ব্যাংকে ছিল মাত্র চার লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন সাত কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা। পাশাপাশি ২০০৮ সালে সাংসদের ব্যাংকে জমা ছিল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। এখন তা দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper