অভিযুক্ত দেবযানী ভারতের পথে

1
ভিসা জালিয়াতি ও ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।

তার গ্রেপ্তার করা নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় একমাস ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই নিউ ইয়র্কের গ্র্যান্ড জুরি বৃহস্পতিবার দেবযানীর বিচার শুরুর এই আদেশ দেয়।

অবশ্য কূটনৈতিক হিসাবে আপাতত বিচার প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পাচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী দেবযানী। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে তিনি দেশের পথে উড়াল দিয়েছেন বলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি প্রীত ভারারের বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলেছে, অভিযোগ গঠন হলেও কূটনৈতিক হিসাবে রেহাই পাচ্ছেন বলে দেবযানীর মামলাটি আপাতত স্থগিত থাকছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক মযার্দা ছাড়া কখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে আবার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

গৃহকর্মীর ভিসা আবেদনে মজুরি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং তাকে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না দিয়ে বেশি কাজ করানোর অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাড়েকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিন্তু তাকে প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিবস্ত্র করে দেহ তল্লাশি এবং মাদক কারবারি ও যৌনকর্মীদের সঙ্গে এক সেলে রাখার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক।

ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় ভারত। নয়া দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি দেবযানীকে অপমান করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।

ভারত সরকার দেবযানীর মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র তার বিচারের বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বরং অভিযোগ গঠনের সময় পেছানোর যে আবেদন দেবযানী করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাও খারিজ হয়ে যায়।

এর আগে কূটনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যে বিচার এড়াতে দেবযানীকে নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেট থেকে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনে বদলি করে ভারত।

অন্যদিকে দেবযানীর বিচার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখতে চাপ দেয়। ভারত তাতে ‘না’ বলার পরই দেবযানীকে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র।

এজন্য বৃহস্পতিবার তাকে জি-১ ভিসা দেয়া হয়। এর মাধ্যমেই সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে রেখে পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদা নিয়ে দেশে ফিরছেন দেবযানী।

ভারতে রওনা হওয়ার আগে দেবযানী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

ভবিষ্যতে পুরো ঘটনার কোনো ছাপ তার পরিবারের ওপর পড়বে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে মেয়ের দেশে ফেরার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তার বাবা উত্তম খোবরাগাড়ে।

তিনি বলেন, “দেবযানী নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব উঁচুতে রাখতে লড়াই করেছে। বিতর্ক এড়াতে বিকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পরই সে নিজের আরাম-আয়েশের বিষয়টি ত্যাগ করেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

The Weeklydesh newspaper